দক্ষিণ পূর্ব

সন্দ্বীপ ছেড়ে আসা স্পিডবোটের জ্বালানি শেষ মাঝ সাগরে, কোনমতে বেঁচে ফিরল ২৭ যাত্রী

mainulislam
mainulislam
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৫
পঠিত :
সন্দ্বীপ ছেড়ে আসা স্পিডবোটের জ্বালানি শেষ মাঝ সাগরে, কোনমতে বেঁচে ফিরল ২৭ যাত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ফেরীঘাট থেকে ছেড়ে আসা একটি স্পিডবোট দূর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে আড়াই ঘন্টা সাগরে ভাসার পর ২৭ জন যাত্রী কোনমতে কূলে ফিরে প্রাণে বাঁচে। মালিক পক্ষের গাফিলতিতেই ওই দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। বোটটিতে ৩ শিশু, ২ নারীসহ মোট ২৭ জন যাত্রী ছিলেন।

সোমবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে বোটটি ছেড়ে আসে। তবে মাঝ সাগের বোটটির তেল শেষ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা সাগরে আটকে থাকে। এতে ২৭ জন যাত্রী চরম ঝুৃৃঁকিতে পড়েন। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চিৎকার করতে থাকেন। আতঙ্কে তারা কান্না করেন। একদিকে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, অপরদিকে থেমে যাওয়া শক্তিহীন স্পিডবোট। 

জানা যায়, পরে বোটটি বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা উপকূলে পৌঁছায়। এর মধ্যে অনেকে সাঁতার কেটে কূলে চলে আসে। বোটটি সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিস নামে নতুন একটি কোম্পানির মালিকানাধীন। 

বোটের কয়েকজন যাত্রী গণমাধ্যমকে জানান, কুমিরা ঘাটের কাছাকাছি আসতেই বোটটির গতি কমে যায়। তখন কয়েক কিলোমিটার দূরে। এমনিতেই সাগর উত্তাল। মালপত্র নিয়ে জলপথে সামান্য পথও পাড়ি দেওয়া দু:সাধ্য। এরপর প্রবল ঢেউ ও স্রোতের মুখে বারবার পানিতে আছড়ে পড়তে থাকে বোটটি। চালক তখন যাত্রীদের জানান, বোটের জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বোটের সামনের অংশে পানি ঢুকতে দেখা যায়। আতঙ্কিত যাত্রীরা তখন চিৎকার করতে থাকেন। পরে বোটটি ভাসতে ভাসতে কূলে পৌঁছায়।

বোটে থাকা যাত্রী ফুয়াদ আহমেদ বলেন, ‘বোটের তলা ফেটে পানি ঢুকছে আর আমরা এক কিলোমিটার দূরে উত্তাল সাগরে ভাসছি। একপর্যায়ে মনে হলো হয়তো এখানেই মৃত্যু। 

অনেকেতো সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার কথাও ভাবছিল। কিন্তু ভাগ্য ভালো, শেষ পর্যন্ত কূলে পৌঁছাতে পেরেছি সবাই, কেউ সাঁতার কেটে, কেউ বোটে ভেসে।’বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সবাই নিরাপদে কূলে নামতে সক্ষম হন বলে জানান ফুয়াদ।

এদিকে সোমবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পিডবোট ডুবে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রাণহানির আশঙ্কায় অনেককেই উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়। ওই ওই ভিডিওর মন্তব্যে অনেকে বলতে থাকেন, মাঝপথে স্পিডবোটের জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি মালিকপক্ষের সম্পূর্ণ গাফিলতি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তারা। 

জানতে চাইলে বোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সন্দ্বীপ মেরিন সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বোটের জ্বালানি শেষ হয়নি। তীব্র স্রোতের কারণে বোটটি কুমিরা ঘাট থেকে উত্তরে সরে গিয়ে তীরের কংক্রিট ব্লকে ধাক্কা খায়। এতে বোটের নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু যাত্রীরা সবাই নিরাপদে কূলে পৌঁছাতে সক্ষম হন।’

বৈরী আবহাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বোট চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের সার্ভিস বন্ধ ছিল। তবে বিদেশগামী কয়েকজন যাত্রীর অনুরোধে এই একটি ট্রিপ চালু করতে হয়েছে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই সময়ে বোট চলাচলের অনুমতি ছিল না। তিনি বলেন, মাঝ সাগরে জ্বালানি শেষ হওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, তার দায় চালক ও মালিকের। ইতিমধ্যে স্বত্বাধিকারীদের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। চালকের লাইসেন্স স্থগিত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।