মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতির বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সূর্যোদয়ের পর নগরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শহিদদের স্মরণে নীরবতা ও গাম্ভীর্যের পরিবেশ বিরাজ করে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের অবদান জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী জিয়াউর রহমান-সহ দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবদান রাখা সব বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমাদের দায়িত্ব।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী উল্লেখ করে মেয়র বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বনির্ভর করার কাজ এগিয়ে চলছে, যা দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনতার চেতনা ধারণ করে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়া চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মেয়র বলেন, বিপ্লব উদ্যান, বধ্যভূমি, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে কাজ চলমান থাকলেও অনেক স্থাপনা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি, যাতে সিটি করপোরেশন কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
মেয়র জোর দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে না পারলে জাতি হিসেবে দায়মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচ