হাটহাজারী প্রতিনিধি
দীর্ঘ ২৯ বছর মাওলানা আব্দুল করিম হুজুর সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে ইমামের দায়িত্ব পালন করায় রাজকীয়ভাবে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন এলাকাবাসী। সাথে ব্যবহারের জিনিসপত্র সহ নগদ ৩ লাখ টাকা,আজীবন চিকিৎসা ব্যয় ও সন্তানকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে ইমামের পদ থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন মাওলানা আব্দুল করিম। তবে বিদায় বেলায় তাকে দেওয়া হয় সংবর্ধনা। ফুলে সজ্জিত গাড়িতে চড়িয়ে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় সেই ইমামকে।
ঘটনাটি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ১নং ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন হালদা নদীর পাড়ে আমিন ডাক্তার জামে মসজিদে। ৫৬ বছর বয়সী সে ইমাম কুমিল্লা নাঙ্গলকোট মিটুয়াগ্রামের রংগু মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসী জানান, ১৯৯৬ সাল থেকে মাওলানা আবদুল করিম হুজুর আমিন ডাক্তার জামে মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে নিজে থেকে স্বেচ্ছায় ইমামের দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি চান তিনি। এলাকাবাসী তার সম্মানে তাকে সংবর্ধনা দেন। হুজুরকে গাড়িতে করে রাজকীয় বিদায়ের মাধ্যমে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
মোতোয়াল্লি পরিবারের সদস্য আলহাজ্ব বেদারুল আলম ও ব্যাংকার শওকত ওসমান বলেন, আমাদের এলাকায় দীর্ঘ ২৯ বছরে হুজুরের সাথে কারো কোনদিন দুই কথা হয়নি। খুব সাদামাটা জীবন যাপন করতেন হুজুর। আজকে ছয় বছর ধরে হুজুর বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন আমরা তার পরেও হুজুরকে বিদায় দিতে চাচ্ছি না। হুজুরের বিশেষ রিকোয়েস্ট অপরাগতা জানালে আমরা বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। হুজুরের বিদায় বেলায় আমাদের এলাকায় ছোট থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত পাশাপাশি আমাদের মা-বোনেরাও চোখের পানিতেই হুজুরকে বিদায় দিয়েছেন।
এমন সংবর্ধনা পেয়ে আবেগ আপ্লুত ইমাম মাওলানা আবদুল করিম। আবেগজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি সারাজীবন দ্বীনের সেবায় কাটিয়েছি। এলাকার মানুষকে কুরআন শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ পাক আমাকে এ সম্মান দিলেন। তার দরবারে হাজারো শুকরিয়া। আমি এলাকাবাসীর ভালোবাসায় সত্যিই মুগ্ধ। পাশাপাশি নগদ ৩ লাখ টাকা, আমার আজীবন চিকিৎসা ব্যয় ও সন্তানকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার জন্য এলাকাবাসীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
এএস/এমএইচএফ