নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ছাত্রদল কর্মী তামিমেরও মৃত্যু হয়েছে।আজ বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তামিমের মৃত্যু হয়।
এরআগে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চিকনদন্ডী ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।এতে ছুরিকাঘাতে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি অপি দাশ (২৮)ঘটনাস্থলেই মারা যায়। দুইটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধ ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র।
নিহত অপি দাশ (২৮) ফটিকছড়ি উপজেলার মিন্টু দাসের পুত্র।তবে তার পরিবার হাটহাজারীর চিকনদন্ডিতে বসবাস করেন।আর তামিম (২১) হাটহাজারী উপজেলার ৩নং মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাটস্থ চৌধুরী বাড়ির জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র।নিহত দু' জনই বিএনপির
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের অনুসারী বলে পরিচিত।
স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছেন,নিহত অপি দাশ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো।তবে গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর মাদক ব্যবসাসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।এরমধ্যে গত ৭ মাস আগে ইয়াবাসহ আটক হয়।মাদক ব্যবসাসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের সাথে তার বিরোধ রয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে।ফুটেজে দেখা যায়,স্থানীয় যুবক সুদীপ্ত মহাজন কয়েকজন কিশোরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে।এরমধ্যে অপি এসে তাকে থাপ্পড় মারে।সে সময় সুদীপ্তের সাথে থাকা কিশোররাও তাকে (সুদীপ্তকে) মারতে থাকে।এরমধ্যে সুদীপ্ত অপি ও তামিমকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
হত্যাকান্ডে প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত মহাজান বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। সে পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ এলাকার দীপক মহাজনের পুত্র।তবে তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে হাটহাজারীর চৌধুরীহাট এলাকায় বসবাস করেন।সুদীপ্ত নিজেও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ আছে।তবে তার কোন রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এদিকে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ আবসার নামের স্থানীয় এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে।তবে সিসিটিভি ফুটেজ অনুসারে হত্যাকান্ডে সরাসরি অংশ নেয়া সুদীপ্ত মহাজনকে গ্রেফতার করা যায়নি।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের বলেন,চৌধুরীহাটে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছি।বাকি।আসামিদেরও গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চলছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধে হত্যাকাণ্ড কি-না জানতে চাইলে ওসি বলেন,এই বিষয়টিও হতে পারে।অন্য কারণও থাকতে পারে।বিস্তারিত না জেনে আপাতত মন্তব্য করা যাবে না।