দক্ষিণ পূর্ব

হার্টের রিং নিয়ে সমকালে রিপোর্টের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া

Riayad
Riayad
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬
পঠিত :
হার্টের রিং নিয়ে সমকালে রিপোর্টের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া

ছবি সংগৃহীত

হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্টেন্ট (হার্টের রিং) ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে দৈনিক সমকাল-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চট্টগ্রামের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন চট্টগ্রাম সোসাইটি অব ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি (সিএসআইসি)।

 

সংগঠনটি প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগকে "ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর" আখ্যা দিয়ে সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কথিত অবৈধ স্টেন্ট ব্যবসা, কমিশন বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ বিভাগের কোনো চিকিৎসক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অভিযোগের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করা হয়।

 

সিএসআইসি জানায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাথল্যাবে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। ব্যবহৃত স্টেন্টসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও প্রচলিত সরকারি বিধি মেনেই ব্যবহার করা হয়। ক্যাথল্যাবে অবৈধ বা অননুমোদিত স্টেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে যে কোনো সময় নিরপেক্ষভাবে পরিদর্শন করে প্রকৃত চিত্র যাচাই করতে পারে।

 

বিবৃতিতে বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহীম চৌধুরীকে ঘিরে প্রকাশিত তথ্যেরও প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বলা হয়, তিনি ২২ জুন ২০২৬ সালে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর আত্মীয়স্বজন বা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্টতার যে ইঙ্গিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

 

এ ছাড়া প্রতিবেদনে নথিপত্র দেখানোর পর বিভাগীয় প্রধান মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন—এমন দাবিও সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেছে সিএসআইসি। সংগঠনের ভাষ্য, ঘটনাটি বাস্তবে প্রতিবেদনে বর্ণিতভাবে ঘটেনি।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত চিকিৎসাবিজ্ঞান, রোগীর ক্লিনিক্যাল অবস্থা এবং প্রচলিত চিকিৎসা নির্দেশিকার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। কমিশন গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার দায়িত্বের অংশ বলেও মন্তব্য করা হয়।

 

চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে কোনো অনিয়ম থাকলে তা তদন্ত করা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একটি সরকারি হাসপাতালের বিশেষায়িত বিভাগ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

সিএসআইসি দাবি করেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এ ধরনের সংবাদ রোগীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা নষ্ট করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

বিবৃতিতে সমকাল-এর কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো—প্রকাশিত তথ্য পুনরায় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা, হৃদরোগ বিভাগের প্রতিবাদ একই গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা এবং বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য সংশোধন করা।

 

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ সবসময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো নিরপেক্ষ তদন্তে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা বিভাগ ও এর চিকিৎসকদের সুনাম ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

 

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই সমকাল-এ প্রকাশিত 'চট্টগ্রামের হাসপাতাল- হার্টের অবৈধ রিং ব্যবসা, জড়িত চিকিৎসক-নার্স' শিরোনামের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ভারত থেকে অবৈধভাবে স্টেন্ট (হার্টের রিং), বেলুন ক্যাথেটার, গাইড ওয়্যার, গাইড ক্যাথেটার, ওয়াই-কানেক্টর, ম্যানিফোল্ড এবং শিথ টাইগার ক্যাথেটারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম দেশে এনে রাজধানীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করছে একটি চক্র। এতে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।য়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

 

আরএইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।