দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননকেন্দ্র ও বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ খ্যাত চট্টগ্রামের হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে সংগ্রহকারীদের জালে এসব নমুনা ডিম ধরা পড়ে। এতে ডিম সংগ্রহকারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে যে, সামনের জো-তেই মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে।
ডিম সংগ্রহের আশায় বুধবার রাত থেকেই রাউজান ও হাটহাজারী অংশের শত শত সংগ্রহকারী নৌকা, জাল, বালতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে অবস্থান নেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভাটার সময় কয়েকটি এলাকায় নমুনা ডিম ধরা পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আরও অনেক সংগ্রহকারী নদীতে নামেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণত এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার তিথিতে বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢল নামলে হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশ মাছ ডিম ছাড়ে। তখন রাউজান ও হাটহাজারীর প্রায় চার থেকে পাঁচশ সংগ্রহকারী বিশেষ পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহ করেন। পরে হ্যাচারি ও মাটির কুয়ায় এসব ডিম থেকে রেণু উৎপাদন করা হয়।
গত মৌসুমে হালদা নদী থেকে ১৪ হাজার ৬৬৪ কেজি ডিম সংগ্রহ হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের দাবি, আরও বেশি ডিম পাওয়া গেলেও সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সব সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এ বছর বাড়তি ডিম সংরক্ষণের জন্য নতুন কুয়া নির্মাণের কাজ চললেও তা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
রাউজান উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেন, “এ বছর আগেভাগেই বৃষ্টি হওয়ায় নদীতে মা মাছের ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবেশ বজায় থাকলে সামনের পূর্ণিমার জো-তে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে পারে।”
হাটহাজারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী জানান, হালদার হাটহাজারী অংশের মাছুয়াঘোনা, শাহ মাদারি ও মদুনাঘাট হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিতে ৪৬টি, শাহ মাদারিতে ৪৫টি এবং মদুনাঘাটে ১৮টি কুয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি গড়দুয়ারা ও বারিয়াঘোনায় ৩০টি মাটির কুয়াও প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, “যথাসময়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল এবং উজানের পানি নামায় এ বছর ডিম ছাড়ার পরিবেশ খুব ভালো। নমুনা ডিম পাওয়ার খবর আশাব্যঞ্জক।”
রাউজান অংশে মোবারকখীল হ্যাচারিতে ৩০টি কুয়া ও ৬টি সার্কুলার ট্যাংক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। হাটহাজারী অংশেও পাঁচ শতাধিক ডিম সংগ্রহকারী এবং একাধিক হ্যাচারি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিম সংগ্রহকারী হারেজ চৌধুরী বলেন, “সকাল থেকে একেকজন ১৫ থেকে ২০টি করে নমুনা ডিম পেয়েছেন। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে যেকোনো সময় মা মাছ ডিম ছাড়বে। তবে আগাম বৃষ্টির কারণে অনেক সংগ্রহকারী এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হতে পারেননি।”
একই তথ্য নিশ্চিত করে ডিম সংগ্রহকারী মো. রবিউল ,আংশিক, আলম ও মো. হোসেন জানান, হালদা নদীর আজিমেরঘাট, কুমার স্কুল এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে নমুনা ডিম পাওয়া যাচ্ছে। এতে অধিকাংশ সংগ্রহকারী সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নেমে পড়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক অধ্যাপক মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, “নদীর কিছু কিছু জায়গায় নমুনা ডিম পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নদীতে এখন ডিম ছাড়ার মতো অনুকূল পরিবেশ থাকলে সন্ধ্যার পর ভাটার জো'তে সাড়ে ৭ টা থেকে সাড়ে ৮ টার মধ্যে ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা আছে ।
আর এইচ