চট্টগ্রাম নগরের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের অনুমোদিত নকশা, পার্কিং ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় নানা অনিয়ম পেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। এসব অনিয়ম এক মাসের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার চউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল নগরের ন্যাশনাল, ম্যাক্স, এরিস্ট্রোকেয়ার, ইপিক ও পপুলার হাসপাতাল পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনে দেখা যায়, কয়েকটি হাসপাতাল আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা করা হয়েছে। আবার অনেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় রোগীদের গাড়ি সড়কে রাখতে হচ্ছে। এতে যানজট বাড়ছে।
চউক জানায়, ন্যাশনাল হাসপাতালে অনুমোদিত ৫০টি পার্কিংয়ের মধ্যে ব্যবহারযোগ্য পাওয়া গেছে ২৮টি। ম্যাক্স হাসপাতালের পার্কিংয়ের বড় অংশ চিকিৎসকদের গাড়িতে দখল ছিল। এরিস্ট্রোকেয়ার হাসপাতালে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও অনুমোদিত নকশা নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়ে ইপিক হাসপাতালের বিভিন্ন ভবনে। সেখানে আবাসিক ভবনে হাসপাতাল পরিচালনা, পার্কিং এলাকায় দোকান ভাড়া দেওয়া, নকশার বাইরে লিফট নির্মাণ এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি পাওয়া যায়। এসব কারণে হাসপাতালটির এক্সটেনশন ভবনের কার্যক্রম দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পপুলার হাসপাতালের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার খোলা জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ এবং একটি ভবনের অনুমোদিত নকশা দেখাতে না পারার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে।
আগামী সোমবার সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষকে অনুমোদিত নকশা, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে চউক কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
চউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পর্যাপ্ত পার্কিং, অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। রোগীদের জন্য নির্ধারিত পার্কিং অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এক মাসের মধ্যে অনিয়ম সংশোধন না হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।