বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, এনবিপি, এনপিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, ওএসপি, এনপিপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
এ উপলক্ষে নৌ সদর দপ্তরে দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নৌপ্রধানের কার্যালয়ে কমান্ড হস্তান্তর ও গ্রহণ বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি তাঁর ব্যাচে জ্যেষ্ঠতা ও মেধায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।
তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি এমফিল এবং স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স ও অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ-বিদেশ থেকে প্রথম শ্রেণিতে তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের (এএফডব্লিউসি) কৃতি গ্র্যাজুয়েট। ছাত্রজীবনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান লাভ করায় রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও নেতৃত্বমূলক দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল (কমচিট), কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল (কমঢাকা), কমান্ডার সাবমেরিন (কমসাব) এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক (নৌ অপারেশন্স) ও পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফ্রিগেট বানৌজা ওমর ফারুক-সহ বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয়, বানৌজা সৈকত এবং বানৌজা তিতুমীর-এর অধিনায়ক ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিএসসিএসসি এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরে তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ-ওমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন পদক নৌবাহিনী পদক (এনবিপি)' ও 'নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি)' অর্জন করেন। এছাড়া জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার, জাতীয় স্কাউট পুরস্কার (রৌপ্য ইলিশ পদক), তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া, 'বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন' পুরস্কার, সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার এবং এন্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে সেরা শিক্ষার্থীর স্বীকৃতি লাভ করেন।
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি একজন মননশীল পাঠক, লেখক ও গবেষক। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং নৌ-কৌশলগত বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। খেলাধুলার মধ্যে গলফ, বাস্কেটবল, দাবা ও টেবিল টেনিসে তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল এবং মালে ও ফরাসি ভাষায় ব্যবহারিক দক্ষতা রাখেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান বলেন, সরকারের 'মেড ইন বাংলাদেশ' নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি বদ্ধপরিকর।
আরএইচ