শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার কারণে সারা দেশে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য থাকা শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। প্রায় ৩০ হাজার মামলাজটের কারণে শিক্ষা প্রশাসনে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম কলেজ মিলনায়তনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সাল থেকে চলমান একটি আইনি জটিলতার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ জনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও পদোন্নতির প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। আগামী ২ জুলাই আপিল বিভাগে এ সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত রয়েছে। প্রত্যাশিত রায় হলে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো পূরণের পথ উন্মুক্ত হবে।
তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে আরও প্রায় ৭৭ হাজার শিক্ষক প্রয়োজন। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে এসব পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চার বছরের কোর্স চার বছরেই শেষ করার নির্দেশনা শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের স্নাতক কোর্স চার বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
তিনি জানান, ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি আগেভাগেই প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ পায়। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়াও সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নকলের ধরন বদলেছে, পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকবে সিসি ক্যামেরা পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একসময় প্রচলিত নকল বন্ধ করা সম্ভব হলেও বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর বা ডিজিটাল নকল নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকলের যেকোনো চেষ্টা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং স্বচ্ছ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। আগামী প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং আত্মপ্রেরণার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সম্মান আদায় করে নিতে হয় উল্লেখ করে তিনি শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
শিক্ষা বাজেট ও সুশাসনের প্রসঙ্গ শিক্ষা খাতের বাজেট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে শিক্ষায় ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে এখনও কিছু গোষ্ঠী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা না করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। প্রশাসনের কোনো পর্যায়ে দুর্বলতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সভায় শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অংশ নেন।
আরএইচ