দক্ষিণ পূর্ব

বান্দরবানে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৫
পঠিত :
বান্দরবানে টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা মানুষগুলো পড়ছেন চরম ঝুঁকিতে। সাংগু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কে আছেন নিম্মাঞ্চল, নদীর তীরবর্তী ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা।

শুক্রবার (৩০ মে) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১৭৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই বছরে বান্দরবানে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

বান্দরবানের সাত উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে তুলেছে কয়েক হাজারের বেশি পরিবার। জেল শহরে কালাঘাটা, বনরুপা, বীর বাহাদুর নগর, লাঙ্গেপাড়াসহ বেশ আরও কয়েকটি স্থানে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন অধিকাংশ মানুষ। জেলা শহরে শুধু নয় লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় একই চিত্র।

এদিকে, টানা বৃষ্টির কারণে ঝুঁকিপূর্ণস্থানে বসবাসরত জনসাধারণকে নিরাপদে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্যোগ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের রক্ষা করতে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা, মেডিকেল টিম গঠনসহ দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলায় ২১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে বলে জানায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, ২০০৬ সালে জেলা সদরে পাহাড়ধসে তিনজন মারা যান। এ ছাড়া ২০০৯ সালে লামা উপজেলায় শিশুসহ ১০ জন, ২০১০ সালে নাইক্ষ্যংছড়িতে শিশুসহ ১০ জন, ২০১১ সালে রোয়াংছড়িতে দুজন, ২০১২ সালে লামা ফাইতং ইউনিয়নে ২৮ জন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১০ জন, ২০১৩ সালে পৌর শহরের কালাঘাটায় দুজন, ২০১৪ সালে সদরে চারজন, ২০১৫ সালে লামায় ছয়জন ও সদরের বনরূপা পাড়ায় তিনজন, ২০১৭ সালে সদরের কালাঘাটায় সাতজন ও রুমা সড়কে পাঁচজন, ২০১৮ সালে নাইক্ষ্যংছড়িতে তিনজন ও লামায় চারজন, ২০১৯ সালে লামায় একজন, ২০২০ সালে আলীকদমের মিরিঞ্জা এলাকায় একজন, ২০২১ সালে ছাইঙ্গ্যা ঝিরিতে এক পরিবারের তিনজন, ২০২৩ সালে জেলা শহরের কালাঘাটা এলাকায় মা-মেয়েসহ দুজন ও সর্বশেষ চলতি বছর নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড়ধসে এক কৃষক নিহত হয়েছেন।

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন মণ্ডল বলেন, বান্দরবানে প্রায় পাঁচদিন মতো সকাল থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হতে পারে। সেসঙ্গে বৃষ্টির পাশাপাশি হালকা ঝোড়ো বাতাস বইবে। তবে পাহাড়ে যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন সেখানে পাহাড় ধসে আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, যেসব জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি আছে বা এখনো পাহাড় কাটা হচ্ছে, সেসব জায়গার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে মিটিং করে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথা জানান।

এআইকে/এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।