দক্ষিণ পূর্ব

চবির ৫ম সমাবর্তনে আবেগছোঁয়া উচ্ছ্বাসে সিক্ত গ্র্যাজুয়েটরা

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৫
পঠিত :
চবির ৫ম সমাবর্তনে আবেগছোঁয়া উচ্ছ্বাসে সিক্ত গ্র্যাজুয়েটরা
চবি প্রতিনিধি

পরনে কালো গাউন আর মাথায় বিশেষ হ্যাট। সমাবর্তনের চিরায়ত দৃশ্য এটি। গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত দিন সমাবর্তন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের সব আবেগ যেন রূপ নিয়েছে উচ্ছ্বাসে। সমাবর্তনে অংশ নিয়ে একদিকে আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য শোনা, অন্যদিকে আকাশে টুপি উড়িয়ে ছবি তোলা। 

বুধবার ( ১৪ মে) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবহ অনেকটা উৎসবের মতো। গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে উৎসবে মেতেছেন তাদের স্বজনরাও। এদিকে সমাবর্তন বক্তৃতায় গ্র্যাজুয়েটদের দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথিরা।

সোমবার (১২ মে) সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখর হতে থাকে গ্র্যাজুয়েটদের পদচারণে। সবাই মেতে ওঠেন দিনটিকে ফ্রেমে বন্দি করে রাখার প্রতিযোগিতায়। শহীদ মিনার, সাইন্স ফ্যাকাল্টি মসজিদ,বুদ্ধিজীবী চত্বর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, সেন্ট্রাল ফিল্ড-সবখানে যেন ছিল ছবি তোলার মহোৎসব।

গত দুই দিন ধরে ছবি তুললেও সমাবর্তনের দিনে ছবি তোলার বিশেষ আবেদন অগ্রাহ্য করতে পারেননি শিক্ষার্থীরা। শেষ মুহূর্তে সবারই চাওয়া ছিল চার বছরের স্নাতক জীবনের আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপনী দিনের মুহূর্তগুলো ধরে রাখা। তাই তো অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রাম থেকে নিজের বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের এনেছেন ক্যাম্পাসে। বাবার গায়ে গাউন আর মায়ের মাথায় তুলে দিচ্ছেন সমাবর্তনের বিশেষ টুপি। তাদের ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন ক্যাম্পাস। নিয়ে যাচ্ছেন নিজের আবাসিক হল দেখাতেও।

ক্যাম্পাসে এসেছিলেন বাংলা বিভাগের আব্দুল্লা মাসুদ। পরে প্রিয় ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়েই সমাবর্তনের টুপি বাবাকে পরিয়ে দেন। যে মানুষটির অকুণ্ঠ সমর্থন ও পরিশ্রমে এত দূর আসা, যেন এভাবেই তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি।

সমাবর্তন নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শাওন নামে এক শিক্ষার্থী জানান, সমাবর্তনের দিনটি তার কাছে বিশেষ একটি দিন। এ দিনের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। স্মৃতির পাতায় দিনটি ধরে রাখতে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া গাউন ফেরত নেওয়ার আগে আরও কিছু চমৎকার মুহূর্তকে ফ্রেমবন্দি করার ইচ্ছে শাওনের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের  শহীদ মিনারে কথা হয় আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি জানান, আজকের দিনটি তার কাছে একটু বিশেষ। তিনি সন্তান এবং স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ৯ম সমাবর্তনে যোগ দিয়েছেন। 

সামিয়া নামে এক অভিভাবক সন্তানের সমাবর্তনে আসার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমিও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম। ৩৩ বছর আগে এখানে আমাদের পদচারণ ছিল। আমি সে সময় সমাবর্তন নিতে পারিনি। কিন্তু আমার মেয়ে সমাবর্তন পেয়েছে। তার সমাবর্তনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমি এসেছি।’

এর আগে দুপুর ১ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান। বিপুল পরিমাণ কনভোকি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। এতে প্রধান উপদেষ্টাকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া ৫ম সমাবর্তনে পিএইচডি ডিগ্রি পাচ্ছেন ২২ জন গবেষক। মোট ১৭ জনকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়। বর্তমান সরকারের চারজন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। 

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহিয়া আক্তার   বলেন, ‘অর্জিত এই বিদ্যা, এই সনদ, এই প্রজ্ঞা সমাজে আলো ছড়ানোর আগে যেন তোমাদের অন্তরকে সম্পূর্ণরূপে আলোকিত করে, সেই চেষ্টা করবে। তোমরা তোমাদের অনুজদের জন্য অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেদের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘বর্তমান পৃথিবী তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর। তোমরা সর্বদা এর ইতিবাচক এবং নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকবে। মানবসভ্যতার উন্নয়নে যেই প্রযুক্তি তোমাদের ব্যবহার করার কথা, সচেতন থেকো সেই প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করে না ফেলে। নিজেদের সময়কে সর্বোচ্চ সুন্দর এবং সৃষ্টিশীল কাজের পেছনে ব্যয় করো।’

এইচ/এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।