দক্ষিণ পূর্ব

নাজিরহাটে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার কালো অধ্যায় স্মরণে দিনব্যাপী কর্মসূচি

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
পঠিত :
নাজিরহাটে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার কালো অধ্যায় স্মরণে দিনব্যাপী কর্মসূচি
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

উত্তর চট্টগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দিন ৯ ডিসেম্বর, নাজিরহাট হানাদার মুক্ত দিবস আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। হাটহাজারী–ফটিকছড়ির সীমানা সংলগ্ন জনপদ নাজিরহাট ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধের সাক্ষী হয়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর ভোর রাত থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণে টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। পাক বাহিনী সরে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে নাজিরহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ, ছাত্র জনতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ব্যাপক উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। বিজয়ের আনন্দে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে।

সেদিনের ঘটনা স্মরণ করে সাংবাদিক ইউনুস গনি বলেন, “দিনভর ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জওয়ানরা চাঁদের গাড়িতে করে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাজিরহাটে সমবেত হন। মানচিত্রখচিত পতাকা নিয়ে তারা আনন্দ উল্লাসে মাতোয়ারা ছিলেন।”

তিনি আরো জানান, গোপনে খবর পেয়ে পলাতক পাক সৈন্যরা সন্ধ্যায় হাটহাজারীর অদুদিয়া মাদরাসার সামনে থেকে ৩–৪টি যাত্রীবাহী বাসে করে নাজিরহাটে আসে। এসে তারা উল্লাসরত মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ জনতার ওপর অর্তকিত হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সম্মুখযুদ্ধ শুরু হয়।

এ যুদ্ধে ঘটনাস্থলেই বীরত্বের সাথে প্রাণ উৎসর্গ করেন, সিপাহি মানিক মিয়া (চট্টগ্রাম), ফোরক আহাম্মদ (নাজিরহাট), হাসিনা খাতুন (নাজিরহাট), আবদুল মিয়া (নাজিরহাট), নূরুল আবসার (কুমিল্লা), মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর হক (ফরহাদাবাদ) মুক্তিযোদ্ধা তফাজ্জল হোসেন (বরিশাল), সিপাহি নূরুল হুদা (কুমিল্লা), সিপাহি অলি আহাম্মদ (খুলনা), সিপাহি নূরুল ইসলাম (সন্দ্বীপ) ও অজ্ঞাতনামা একজনসহ মোট ১১ জন।

এ ছাড়াও পাক বাহিনী ৯ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত নাজিরহাট, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী এলাকায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, বাড়িঘরে হামলা, সাধারণ মানুষকে হত্যা ও হালদা নদীর সেতু ধ্বংসসহ নানান বর্বরোচিত তাণ্ডব চালায়।

হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচিতে রয়েছে— নাজিরহাট গণকবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, খতমে কুরআন, বিশেষ মুনাজাত ও দোয়া মাহফিল। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শহীদদের স্মরণে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরো দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে।

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।