নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসকে হত্যার হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসা চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীর স্ত্রী সাহেদা বেগমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ রবিবার (৯ মার্চ) দুদকের করা এক মামলায় তাকে মহানগর দায়রা জজ নুরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এর আগে তিনি ওই ওই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
মুজিবুল চাম্বল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর প্রকাশ্যে এক জনসভায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে হুমকি দেন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। চাম্বল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত ওই সভায় মুজিবুল হক পিটার হাসের উদ্দেশে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য দেন।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মুজিবুল হক চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল মালেক বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে পৃথক মামলা দুটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মুজিবুল হক জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৫৬ লাখ ৭১ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। তিনি ১৯৯২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবাসে থাকলেও দেশে টাকা পাঠানোর কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
অপর মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মুজিবুল হকের স্ত্রী সাহেদা বেগম জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৮৬ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৭ টাকার সম্পদ উপার্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। এ মামলায় মুজিবুল হককেও আসামি করা হয়। গত বছরের ১ আগস্ট মুজিবুল এবং তার স্ত্রীর অবৈধভাবে অর্জিত স্থাবর সম্পদ জব্দের (ক্রোক) আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান বলেন, দুদকের করা মামলায় জামিন চেয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মুজিবুল হকের স্ত্রী সাহেদা বেগম। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।