শরীফুল রুকন
একদিকে নিজস্ব ওষুধের অভাব, অন্যদিকে 'ধার করা' ফর্মুলার ওপর নির্ভরশীলতা- এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প। আবিষ্কারক দেশগুলো যেখানে নিজ নিজ ওষুধের গুণমান ও কার্যকারিতা নিয়ে সজাগ, বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তৎপর, সেখানে বাংলাদেশের চিত্রটা উল্টো। ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ ওষুধে সয়লাব বাংলাদেশ। গুরুতর এ বিষয়টি নিয়ে নীরব ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ)। তাদের গাফিলতি ও ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছে 'নতজানু' অবস্থা এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে রেখেছে গোটা জাতিকে। দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক চিত্র।
তথ্যের সন্ধানে পদে পদে বাধা, শুরুতেই গোঁজামিল বিশ্বের বহু দেশের মতো বাংলাদেশেও কি কখনো কোনো ওষুধ নিষিদ্ধ হয়েছে? হয়ে থাকলে সেই তালিকা কোথায়? কবে, কী কারণে নিষিদ্ধ হলো সেসব ওষুধ? এই সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে
গিয়েই উন্মোচিত হয় এক জটিল জাল। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিষিদ্ধ ওষুধের তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। কখনও দেখান রহস্যময় আচরণ। তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও মেলেনি স্বচ্ছ চিত্র। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যেও থেকে যায় বিস্তর ফাঁকফোকর।
২০২৪ সালের ৫ জুন তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পর ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে যে আংশিক তালিকা দেওয়া হয়, তাতে ৫০টি (৪১টি মানুষের, ৯টি পশুর) 'বাতিলের সুপারিশ করা' ওষুধের নাম ছিল। কিন্তু কবে বাতিল হলো, কী কারণে বাতিল হলো- তা উল্লেখ নেই এতে। কেবল ২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির (ডিসিসি) কয়েকটি সভার সুপারিশের কথা বলা হয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাই স্বীকার করেন, ১৯৭২ সাল থেকে সকল নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকা তাদের কাছে নেই। এমনকি 'বাতিলের সুপারিশ করা ওষুধগুলোকেই 'বাতিল করা হয়েছে' বলে ধরে নিতে পরামর্শ দেন তারা। এই 'ধরে নেওয়ার' সংস্কৃতিই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় সংস্থাটির দুর্বল কার্যপদ্ধতি।
বাতিল ওষুধের অজানা প্রভাব ও আন্তর্জাতিক সতর্কতা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দেওয়া তালিকার শীর্ষে থাকা 'রোফেকক্সিব', যা বাতের ব্যথায় ব্যবহৃত হতো, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় বলে বিশ্বজুড়ে পরিত্যক্ত। 'ভালডেকক্সিব' গুরুতর হৃদযন্ত্র ও রক্ত সঞ্চালন সমস্যা তৈরি করে। ব্যথানাশক 'নিমেসুলাইড' যকৃতের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হওয়ায় ইউরোপসহ বহু দেশে নিষিদ্ধ। কিন্তু এই ওষুধগুলো সেবনে বাংলাদেশে কতজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার কোনো পরিসংখ্যান বা গবেষণা নেই ওষুধ প্রশাসন বা অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কাছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, হাসপাতালগুলো থেকে ওষুধের প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া বা অ্যাডভার্স ড্রাগ রিঅ্যাকশন (এডিআর) রিপোর্ট করার হার নগণ্য হওয়ায় ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের মার্চ-এপ্রিলে জমা পড়া ১৪২টি এডিআর রিপোর্টের মধ্যে ৮৮টিই ছিল অসম্পূর্ণ। এই যখন অবস্থা, তখন হয়তো নীরবে ঘটে গেছে অনেক। বড় ক্ষতি।
একই ওষুধ বাতিল ও বৈধ: প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতি
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঔষধ প্রশাসনের বাতিল তালিকায় আছে থাকা 'অ্যাস্টাক্সানথিন ২ ও ৪ মিলিগ্রাম নরম জেলাটিন ক্যাপসুল এবং পাউডারভর্তি হার্ড জেলাটিন ক্যাপসুল'। কিন্তু এ ওষুধ ভিন্ন নামে, ভিন্ন মোড়কে দিব্যি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে স্কয়ার, ইনসেপ্টা, ইউনিমেড ইউনিহেলথসহ অন্তত ১০টি কোম্পানি। এমনকি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এই ওষুধ তৈরির কাঁচামাল আমদানির অনুমতিও দিয়েছে। একই ওষুধের দুটি ভিন্ন ফর্মুলেশন বাতিল তালিকায় থাকলেও, অনুমোদিত ওষুধের ক্ষেত্রে ফর্মুলেশন সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তির সুযোগ। ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির একই সভার কার্যবিবরণীতে অ্যাস্টাক্সানথিন বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং অন্য কোম্পানিকে তা তৈরির অনুমোদন দেওয়ার মতো পরস্পরবিরোধী তথ্যও মিলেছে, যা খোদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকেই বিভ্রান্তিতে ফেলেছে।
একই চিত্র 'টলফেনামিক অ্যাসিড ২০০ মিলিগ্রাম বোলাস' এবং 'কোলেক্যালসিফেরল ২৫এমসিজি/৩ এমএল সিরাপ'র ক্ষেত্রেও। নতুন কোম্পানিকে নিরাপত্তার প্রমাণ দেখাতে না পারায় এই ওষুধগুলোর আবেদন নাকচ করা হলেও, পুরনো কোম্পানিগুলো ঠিকই উৎপাদন ও বাজারজাত করে চলেছে। এসকেএফের মতো প্রতিষ্ঠানকে এসব ওষুধের কাঁচামাল আমদানির অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের কাছে এর ব্যাখ্যা চাইতে গেলে তিনি কখনও 'আগে থেকে অনুমতি ছিল', আবার কখনও 'এই কাঁচামাল দিয়ে অন্য ওষুধও তৈরি হতে পারে'- এমন অস্পষ্ট উত্তর দেন। ভিটামিন ডি নামে পরিচিত কোলেক্যালসিফেরল সিরাপ বাতিল হলেও ট্যাবলেট, ক্যাপসুল আকারে তৈরির অনুমতি থাকায় কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে- এই সহজ ব্যাখ্যাটিও দিতে পারেননি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
কম্বিনেশনের আড়ালে বিষ, ভয়ঙ্কর থ্যালিডোমাইড এখনো বাজারে।
ওষুধ প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী, রোসিগিন্টটাজোন ২ ও ৪ মিলিগ্রাম এবং রোসিপ্লিটাজোন ২ মিলিগ্রামের সাথে মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড ৫০০ মিলিগ্রামের কম্বিনেশন ওষুধ বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু রোসিগ্লিটাজোন ১ মিলিগ্রামের সাথে মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড ৫০০ মিলিগ্রাম মিশিয়ে তৈরি ডায়াবেটিসের ওষুধ সেনসিমেট, আরমোমেট, রোজিমেট নামে বিভিন্ন কোম্পানি দেদারসে বিক্রি করছে। অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের মতে, বাতিল ওষুধকে অন্য ওষুধের সাথে কম্বিনেশন করে বাজারজাত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, ঘাটের দশকে গর্ভবতী নারীদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনা, অসংখ্য বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম দেওয়া 'থ্যালিডোমাইড' ওষুধ এখনো বাংলাদেশে উৎপাদিত ও বিক্রি হচ্ছে। ক্যান্সার চিকিৎসায় এটির ব্যবহারের কথা বলা হলেও, অধ্যাপক ফারুক এই অনুমোদনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, 'এটি মারাত্মক বিষাক্ত ওষুধ। উন্নত বিশ্বে এটির ব্যবহার ষাটের দশকেই নিষিদ্ধ হয়েছে। আমাদের দেশে এই ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া উচিত হয়নি।' এর বিকল্প নিরাপদ ওষুধ থাকা সত্ত্বেও কেন এই ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে, তা এক বড় প্রশ্ন। ওষুধ প্রশাসনের সদ্য সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী মো. রশীদ-উন-নবীও থ্যালিডোমাইডের ভয়াবহ ইতিহাসের কথা স্বীকার করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তথ্য নেই, নাকি গায়েবের ধান্দা?
নিষিদ্ধ ওষুধের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য চেয়ে করা আরটিআই আবেদনের জবাবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর যে লুকোচুরি খেলেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। প্রথমে 'ফি পরিশোধ না করা' এবং আইনের অস্তিত্বহীন ধারা উল্লেখ করে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি, পরে আপিলের পর আংশিক ও ত্রুটিপূর্ণ তালিকা সরবরাহ পুরো প্রক্রিয়াটিই স্বচ্ছতার অভাবকে প্রকট করে তোলে। প্রদত্ত তালিকায় ওষুধ বাতিলের তারিখ নেই, কারণ নেই, সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা তাও উল্লেখ নেই। সংস্থাটির মাত্র ১১টি সভার সুপারিশের কথা বলা হলেও বাকি ২৪৩টি সভার তথ্য অজানা।
এমনকি ২০১৫ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অ্যাডভান্স ড্রাগ রিঅ্যাকশন এডভাইজরি কমিটির (এডিআরএসি) এবং এডিআরএম সেলের সভার কার্যবিবরণী চাইলেও সবটা দিতে পারেনি সংস্থাটি। ঔষধ পরিদর্শক রাজীব দাসের কথায় উঠে আসে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য-সরকারি নথিপত্র ৬ বছরের বেশি পুরনো হলে সেগুলো নাকি স্টোররুমে ফেলে রাখা হয় এবং পরে কেজি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তিনি স্বীকার করেন, ফাইল যেখানে থাকার কথা, সেখানে নেই এবং নথি ধ্বংসের নিয়মও মানা হয় না। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১৯৮৩ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত নিষিদ্ধ ৪৪৪টি জেনেরিক ওষুধের তালিকা তাদের ওয়েবসাইটে সহজলভ্য এবং সম্প্রতি আরও ওষুধ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে সর্বমোট নিষিদ্ধ জেনেরিক ওষুধের সংখ্যা ৬১৪টির বেশি। বাংলাদেশে যেখানে ৪২০৯টি জেনেরিকের ৩৬ হাজারের বেশি অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ নিবন্ধিত, সেখানে নিষিদ্ধের তালিকা এত সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট কেন, সেই প্রশ্ন উঠছেই।
এডিআর রিপোর্টিং: ঝুঁকি বাড়াচ্ছে চরম অবহেলা ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া (এডিআর) সংক্রান্ত তথ্য
সংগ্রহের চিত্র আরও হতাশাজনক। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৪ সালের ১৯ মে খায়রুন নেসা নামের এক গর্ভবর্তী নারীকে মৃত ভ্রুণ অপসারণের জন্য 'সেফট্রিয়াক্সন' ইনজেকশন দেওয়ার পর তার খিঁচুনি (অ্যানাফাইলেক্ট্রিক শক) শুরু হয়। সৌভাগ্যবশত তিনি বেঁচে গেলেও, এই গুরুতর এডিআর ঘটনা ওষুধ প্রশাসনে রিপোর্ট করা হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফের সরল স্বীকারোক্তি, 'আমরা কোনো ওষুধ বা ইনজেকশনের রিঅ্যাকশন রিপোর্ট করি না: শুধু টিকার রিঅ্যাকশনের ক্ষেত্রে রিপোর্ট করি। এমনকি তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, 'ওরা (ঔষধ প্রশাসন) যদি আমাদেরকে না বলে, আমরা কেন আগ বাড়িয়ে এডিআর রিপোর্ট পাঠাতে যাব?'
এই চিত্রটি শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবার গভীরে থাকা সংকটের প্রতিচ্ছবি। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মুখপাত্র মো. শফিকুল ইসলাম স্বীকার করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে এডিআর রিপোর্ট তেমন আসে না এবং এটি বাধ্যতামূলক করতে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ:
ঔষধ প্রশাসনের তথ্যমতেই, দেশে ৫৭০৯টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ৭৫টি (১.৩১%) এবং ২২৯টি অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০০টি (৪৩.৬৭%) এডিআর রিপোর্ট জমা দেয়। যেটুকু রিপোর্ট জমা পড়ে, তার একটা বড় অংশই অসম্পূর্ণ। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জমা পড়া ২,৪৭৫টি রিপোর্টের মধ্যে ১,৪১০টিই ছিল অসম্পূর্ণ। এর কারণ হিসেবে ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তারা জনসচেতনতা, বাজেট ও জনবলের অভাবকে দায়ী করেন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানের ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, ৬৫% ডাক্তার এডিআর রিপোর্ট সম্পর্কে জানলেও, মাত্র ৪% রিপোর্ট করতে জানেন এবং কেউই প্রশিক্ষিত নন। অভিযোগ রয়েছে, ওষুধের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিছু ওষুধ কোম্পানির লোকজন চিকিৎসকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞহীন ওষুধ প্রশাসন: জনস্বাস্থ্যের জন্য অশনি সংকেত
অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ওষুধ খাতের অব্যবস্থাপনার মূলে থাকা কিছু গভীর সমস্যা। তাঁর মতে, 'বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে বিশেষজ্ঞের অভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। থ্যালিডোমাইডের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ অনুমোদন, নিষিদ্ধ ওষুধের কম্বিনেশন আকারে বাজারে আসা, ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনৈতিক প্রভাব- এ সবই বিশেষজ্ঞের অভাব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঔষধ নিয়ন্ত্রণ কমিটিতে ডাক্তার, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা থাকলেও ভোক্তাদের কোনো প্রতিনিধি নেই, যা থাকা অপরিহার্য।
ওষুধ কোম্পানিগুলোর লবি এতটাই শক্তিশালী যে, ওষুধের যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, সঠিকভাবে হয় না। ফলে বিপজ্জনক ওষুষও সহজে অনুমোদন পেয়ে যায়। অধ্যাপক ফারুকের মতে, 'ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রধান লক্ষ্য লাভ করা, ফলে তারা জনস্বাস্থ্যের দিকটি উপেক্ষা করে।'
সদ্য সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী মো. রশীদ-উন-নবী 'রাজনৈতিক চাপের কারণে অতীতে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত' এবং বর্তমানে 'সংস্কারের মধ্যে আছি' বলে মন্তব্য করেছিলেন। নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. শামীম হায়দারও ঔষধ প্রশাসনকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইই