মাসুমুল ইসলাম
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দারুণ ফর্ম ধরে রেখে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা তৃতীয়বারের মতো সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৩৮ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে লিটন দাসের দল। তিন ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো শুরু করেছিল আয়ারল্যান্ড। মাত্র ৪ ওভারে তারা তুলেছিল ৩৮ রান। তবে বাংলাদেশ পেস-স্পিনের মিশ্র আঘাতে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আইরিশরা। চতুর্থ ওভারে শরিফুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন টিম টেক্টর (১৭)। এরপর মুস্তাফিজুর রহমান হ্যারি টেক্টরকে (৫) আউট করলে চাপে পড়ে অতিথিরা।
মাহেদি হাসানের সুনির্দিষ্ট লাইন-লেন্থে এলবিডব্লিউ হন উইকেটরক্ষক লরকান টাকার (১)। এরপর রিশাদ হোসেন একাই আয়ারল্যান্ডের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন। তিনি বোল্ড করেন কার্টিস ক্যাম্ফারকে (৯) এবং বিপজ্জনক পল স্টার্লিংকে (৩৮)। পরক্ষণেই গ্যারেথ ডেলানিকেও (১০) ফেরান তিনি।
শেষদিকে মুস্তাফিজের ঘূর্ণি গতির কাটারে এক ওভারে দুটি উইকেট পড়ে যায়। ইনিংসের শেষ দুই ওভারে রিশাদ ও সাইফুদ্দিন আরও দুটি উইকেট নিলে ১৯.৫ ওভারে ১১৭ রানে অলআউট হয় আয়ারল্যান্ড।
মুস্তাফিজুর ও রিশাদ—দুজনই নেন ৩টি করে উইকেট। শরিফুলের ঝুলিতে ২টি এবং মাহেদি ও সাইফুদ্দিনের ১টি করে উইকেট যায়।
এই ম্যাচে তানজিদ হাসান নেন ৫টি ক্যাচ—টি-টোয়েন্টিতে একজন ফিল্ডারের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ডের যৌথ অধিকারী হলেন তিনি; পূর্ণ সদস্য দেশের হয়ে এটি প্রথম। ১১৮ রানের টার্গেটে মাত্র ৪ ওভারে বাংলাদেশ ওপেনার তানজিদ ও সাইফ তুলে ফেলেন ৩৮ রান। ১৯ রান করে সাইফ ফিরে গেলে দ্রুতই আউট হন অধিনায়ক লিটন দাস (৭)।
সেখান থেকে তানজিদ ও পারভেজ হোসেন ইমন জুটির দৃঢ় ব্যাটিং ম্যাচটাকে একতরফা করে দেয়। ১২তম ওভারে দলকে তিন অংকে পৌঁছে দেওয়া জুটিটি ১৪তম ওভারে জয় নিশ্চিত করে। ওভারের প্রথম বলে তানজিদের হাফ-সেঞ্চুরি (৩৬ বলে) এবং চতুর্থ বলে ইমনের বাউন্ডারিতে আসে জয়সূচক রান। ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন তানজিদ। ইমন খেলেন ২৬ বলে ৩৩ রানের সুন্দর ইনিংস। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন তানজিদ, আর সিরিজসেরা মাহেদি হাসান। বাংলাদেশের এই সিরিজ জয় ২০১২ ও ২০২৩ সালের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়।
ইই