নিউজ ডেস্ক
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ের হালিশহর সিজিপিওয়াই এলাকায় একটি ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণের জন্য রেলওয়ের ২১.২৯ একর জমি লিজ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, এই জমিতে একটি পুরোনো কবরস্থান, মসজিদ ও শতবর্ষী মাজার রয়েছে, যা লিজের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বন্দর হালিশহর রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমির সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই লিজ বাতিলের দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিলও বের করা হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কবরস্থান ও মসজিদ সংরক্ষণ ও সংস্কার করা না হয়, তাহলে সিজিপিওয়াইসহ অন্যান্য রেল অফিসে সর্বাত্মক কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত কোম্পানি সাইফ লজিস্টিকস অ্যালায়েন্স এবং রেলের কন্টেইনার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড-এর (সিসিবিএল) মধ্যে এই জমি লিজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। লিজকৃত জমির মধ্যে প্রায় ৩২ বছরের পুরোনো একটি রেলওয়ে কবরস্থান রয়েছে, যেখানে ৪৫০টির বেশি কবর আছে। এছাড়াও, এখানে একটি মসজিদ, শতবর্ষী মাজার এবং তিনটি বড় জলাশয়ও অবস্থিত। জমিটি ১৪ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে সাইফ লজিস্টিকসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে এনবিআর থেকে সাইফের লজিস্টিকসের লাইসেন্স বাতিল করা হয়।
জমি লিজের পর থেকেই রেলকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেল কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে আশ্বাস দেয় যে কবরস্থান ও মসজিদে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হবে না এবং এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। গত ২১ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে রেল সচিব জমিটি পরিদর্শন করে পুনরায় একই আশ্বাস দেন। তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে এখনও লিখিত কোনো নির্দেশনা না আসায় কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। কবরস্থান ও মসজিদের আশেপাশে ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিজিপিওয়াই, রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, এমপ্লয়িজ লীগ এবং রেলশ্রমিক দলের বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ। তারা জোর দিয়ে বলেন, সিজিপিওয়াই দেশের রেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। এখানে প্রায় ১ হাজার রেলকর্মী পরিবারসহ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের শত শত পরিবার যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে। তারা জানান, ১৯৯৫ সালে এক রেলকর্মীর মৃত্যুর পর তাকে চট্টগ্রাম বন্দর কবরস্থানে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যার ফলে বাধ্য হয়ে এই কবরস্থানে দাফন শুরু হয়। ধীরে ধীরে জঙ্গল ও পরিত্যক্ত জলাভূমিটি কবরস্থানে রূপান্তরিত হয়। তাই এই স্থানটি তাদের কাছে কেবল একটি কবরস্থান নয়, বরং রেলকর্মীদের আত্মসম্মান ও ইতিহাসের প্রতীক।
বক্তারা অবিলম্বে কন্টেইনার টার্মিনালের ইজারা বাতিল, কবরস্থান, মসজিদ, শতবর্ষী মাজার এবং সোবহান স্মৃতি মিলনায়তন রক্ষার দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দেন যে তাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যাবেন।
ইই