দক্ষিণ পূর্ব

টেস্ট পরীক্ষায় ৫১ শিক্ষার্থীকে ফেল করানোর অভিযোগ

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৫
পঠিত :
টেস্ট পরীক্ষায় ৫১ শিক্ষার্থীকে ফেল করানোর অভিযোগ
হাজেরা-তজু ডিগ্রি কলেজে ৫১ শিক্ষার্থীকে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রাম নগরীর হাজেরা-তজু ডিগ্রি কলেজের ৫১ শিক্ষার্থীকে এইচএসসি নির্বাচনি  (টেস্ট) পরীক্ষায় ইচ্ছাকৃত ফেল করানোর অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। কলেজের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ফেল দেখিয়ে তাদের ফরম পূরণে বাধা দিচ্ছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

গতকাল বুধবার এমন অভিযোগ তুলে ধরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ৫১ শিক্ষার্থী। এতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দিলে রবিবার থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। আগামী ২৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাওয়াদুল আমিন বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর আমরা কলেজের মাসিক বেতন-ভর্তি ফি কমানো এবং দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করি। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দাবি মানতে বাধ্য হয়। সেই থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের তার্গেট করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

তিনি বলেন, আন্দোলনের ক্ষোভ থেকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আমাদের ৫১ শিক্ষার্থীকে মডেল টেস্ট পরীক্ষায় এক বিষয়ে ফেল করানো হয়। 

জাওয়াদুল আমিন বলেন, আমি সরকারি মুসলিম হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছি। জিপিএ-৫ পেয়েছি। আমার মতো শিক্ষার্থী ফেল করবে? এটা হাইস্যকর। শুধু আমি না, এখানে বেশিরভাগই শিক্ষার্থীই মেধাবী। তারা সরকারি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে এই কলেজে ভর্তি হয়েছেন। ধরলাম আমরা এক বিষয়ে ফেল করেছি; তবু কলেজ কর্তৃপক্ষ ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দিতে পারে না। অথচ নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে এক থেকে তিন বিষয় পর্যন্ত ফেল করা শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিয়েছে। এমনকি গত বছরও হাজেরা-তজু কলেজে ফেল করা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করেছি আমাদের লিখিত খাতাগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করতে। তারা অনীহা প্রকাশ করেছেন। উল্টো কর্তৃপক্ষ আমাদের হেনস্তা করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসর মুজিবুরের কাছে ক্ষমা চাইতে বিভিন্ন সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের চাপ প্রয়োগ করে। নানা সময়ে আমাদের অভিভাবকদের ঢেকে হয়রানি করে। আন্দোলনের পর থেকে আমাদের অনেক শিক্ষার্থীকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী কলেজ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে আমরা এর বিচার চাই। 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, মুজিবুর রহমান এই অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত ভূমিদস্যু। মুজিব আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে এই এলাকার মানুষকে অত্যাচার করেছে। কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির মামলায় তিনি এখন পলাতক। অথচ ৫ আগস্ট পরবর্তীতে এমন একজন ফ্যাসিস্টের দোসর ও তার পিএসকে দিয়ে গভর্নিং বডি কমিটি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে বেঈমানি। সেই বেঈমানির ফসলও আমরা পাচ্ছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় আজ আমাদের পরীক্ষা দিতে দিচ্ছে না স্বৈরাচারের দোসররা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অহিদুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি।

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।