দক্ষিণ পূর্ব

বিনিয়োগের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রস্তুত : আশিক চৌধুরী

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৮ মে ২০২৫
পঠিত :
বিনিয়োগের জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রস্তুত : আশিক চৌধুরী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশে বিনিয়োগের জন্য অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রস্তুত হয়ে আছেন। তবে গ্যাস, বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ পর্যাপ্ত সুবিধার অভাবে এ সুযোগটা দ্রুত নেওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিরা বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার কথা বিডা চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরেন।

বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে যারা ব্যবসা করেন, তারা অনেক চ্যালেঞ্জ ফেস করে ব্যবসা করেন। আমরা প্রবলেমগুলো সলভ করার চেষ্টা করছি। আনফরচুনেটলি গ্যাস একটা বড় সমস্যা। সাপ্লাইয়ে হিউজ প্রবলেম। এই গ্যাস সাপ্লাই নিয়ে অনেক কথাবার্তা চলছে। গতকাল এনার্জি অ্যাডভাইজার বলেছেন, পাওয়ার জেনারেশনে গ্যাস সাপ্লাই কমিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে বাড়াবেন। আমার মনে হয়, এটাই যথেষ্ঠ না, আমাদের আরও অনেককিছু করতে হবে।’

‘আমার কাছে গতকালও চাইনিজ ইনভেস্টর এসেছে। আরও তিনজন চাইনিজ ইনভেস্টর বাংলাদেশে আসার কথা বলেছেন। উনাদের প্রত্যাশা হচ্ছে যে, আমি উনাদের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট সাইন করবো আর ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে উনারা কারখানা চালু করবেন। এখন গ্যাস, ইলেকট্রিসিটি, রাস্তা- এসবের ব্যবস্থা এর মধ্যে করে দেয়ার তো অপরচুনিটি আমার কাছে নাই। আমার কাছে ইনভেস্টর রেডি, কিন্তু আমার অপরচুনিটি রেডি না আনফরচুনেটলি। আমাদের যত দ্রুত সম্ভব, এই প্রবলেমগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি লালদিয়া টার্মিনাল এলাকায় গিয়েছি, সেখানে ৮০০ মিলিয়ন ডলার এফডিআই আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তারপর আমরা বে-টার্মিনালে গেলাম। সেখানে দুইটা অপারেটরের কথা বলা হচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের এক বিলিয়ন ডলার করে ইনভেস্ট করার প্ল্যান আছে। এরপর আমরা এনসিটিতে গিয়েছিলাম, সেখানেও ২০০ মিলিয়ন ডলারের মতো কথাবার্তা হচ্ছে। এই যে আমরা তিন বিলিয়ন ডলারের কথা বলছি, এটা হয়তো নেক্সট তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আসতে শুরু করবে, যদি আমরা সবকিছু সাকসেসফুলি করতে পারি। আমি তিন বিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট পাচ্ছি শুধু পোর্টে। এছাড়া কর্মসংস্থানের জন্যও এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি পোর্টগুলো করতে পারি, শুধু বে-টার্মিনালেই ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।

তিনি বলেন, ‘শ্রীলংকায় টোটাল পোর্ট আছে সাতটা। তাদের যে হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি সেভেন পয়েন্ট সেভেন এইট মিলিয়ন টিইইউস। বাংলাদেশের ক্যাপাসিটি এখন ওয়ান পয়েন্ট থ্রির কাছাকাছি। ভিয়েতনামে টোটাল পোর্ট আছে ৪৪টা। তাদের ক্যাপাসিটি ৪৭ মিলিয়ন টিইইউস। আমরা বলি যে, আমরা ভিয়েতনামের সঙ্গে কম্পিটিশন করবো, কিন্তু তাদের ক্যাপাসিটি আমাদের চেয়ে ২০ গুণ বেশি। কম্বোডিয়া খুবই ছোট্ট একটা দেশ, তাদের পোর্ট হচ্ছে ২৬টা।

চট্টগ্রামকে ঘিরে বিশাল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এখন যে ম্যানুফ্যাকচার করি, সেটা আসলে আমাদের ক্যাপাসিটি বা ক্যাপাবিলিটির তুলনায় কিছুই না। চট্টগ্রামে আমরা চাইনিজ একটা ইকোনমিক জোনের ঘোষণা দিয়েছি। আনোয়ারাতে একটা কোরিয়ান ইপিজেড আছে। সেখানে কিছু প্রবলেম ছিল, সেগুলো আমরা সমাধান করেছি। মীরসরাইতে আমাদের ন্যাশনাল ইকোনমিক জোন যেটা আছে, আমরা মনে করছি যে বাংলাদেশে যত ইকোনমিক জোন আছে, তার মধ্যে এটা হচ্ছে ফ্ল্যাগশিপ ইকোনমিক জোন। ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের লং টার্ম ভিশন যেটা আমাদের, সেটা কিন্তু পুরোটাই চট্টগ্রামকে ঘিরে।

এসময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।