দক্ষিণ পূর্ব

চবির ক্যান্টিনের খাবারে প্রায়ই পাওয়া যায় পোকামাকড়

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৫
পঠিত :
চবির ক্যান্টিনের খাবারে প্রায়ই পাওয়া যায় পোকামাকড়
মোস্তফা কামাল, চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) হোস্টেল ও ক্যান্টিনে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের পাতে প্রায়ই পোকামাকড় পাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই সমস্যা নতুন নয়—বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। তবে সম্প্রতি এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, প্রতিদিনের খাবারে কখনো পোকা, কখনো টিকটিকির বাচ্চা, আবার কখনো মৃত মাছি পাওয়া যাচ্ছে। এমন অনিরাপদ ও মানহীন খাবার খেয়ে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায়ই খাবারে পোকা বা উড়ন্ত কীট পাওয়া যায়। অভিযোগ করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। হোস্টেলের খাবার খাওয়া যেন আজ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাহ আমানত হলের শিক্ষার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম  বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম দুর্ঘটনা। কিন্তু একমাসে তিনবার ভাতের মধ্যে পোকা পেয়েছি। একবার তো ডালের মধ্যে রীতিমতো পঁচা পোকা ছিল। এই নিয়ে অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হোস্টেলের খাবার খাওয়া এখন আতঙ্কের নাম।

বিজয় ২৪ হলের ছাত্রী মাহমুদা জান্নাত বলেন, আমরা প্রতিদিনই স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে খাচ্ছি। একদিন ভাজি খেতে গিয়ে দেখি একটা টিকটিকির লেজ মত কিছু। এত ঘৃণা লেগেছিল যে তখন থেকেই বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছি। কিন্তু সবাই তো তা পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন ও হোস্টেল ম্যানেজমেন্ট কমিটির দায়িত্বশীলরা বলছেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং এরই মধ্যে সরবরাহকারী ও রান্নার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের মতে, এই ‘সতর্কতা’র বাস্তব কোনো ফল তারা দেখতে পাচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলা ও মান নিয়ন্ত্রণে নজরদারির অভাবই এই সমস্যার মূল কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে, যার একটি বড় অংশ হোস্টেলে অবস্থান করে। তাদের প্রতিদিনের পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার পাওয়ার অধিকার থাকলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা ও দায় এড়ানোর প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন শিক্ষার্থীরা।  দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে চবি প্রক্টর প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মাদ হায়দার আরিফ দক্ষিণপূর্বকে বলেন, এই বিষয়ে আমরা এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। একটু আগে আমরা একটা দোকানে তালা দিয়ে এসেছি।

তিনি আরো বলেন, যে হোটেলগুলোতে খাবারের মান খারাপ। রান্নার পরিবেশ নোংরা শিক্ষার্থীদের উচিত ওইগুলোকে একসাথে ঘোষণা দিয়ে বয়কট করা। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রথমে অভিযোগ তুলে হোটেল ও ক্যান্টিন বন্ধ করে দেওয়ার জন্য। দুই বা তিনদিন পার হওয়ার পর তারাই এসে রিকোয়েস্ট করে তালা খুলে দেওয়ার জন্য। শিক্ষার্থীদের প্রথমে এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। তা নাহলে আমরা যতই অভিযান পরিচালনা করি না কেন তা কাজে আসবে না।

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।