চবি প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পরিবেশবান্ধব ই-কার চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ভাড়ার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি দাবি করে সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ছাত্রশিবির লিখিতভাবে ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ই-কারের উদ্বোধন ও ভাড়ার তালিকা প্রকাশের পর থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরত্বের ১ নম্বর গেইটের সিএনজি ভাড়া ৭ টাকা। আবার জিরো পয়েন্ট থেকে বায়োলজি ফ্যাকাল্টির দূরত্ব প্রায় ২ কিলোমিটার; সিএনজি ভাড়া ৮ টাকা কিন্তু ই-কার ভাড়া ১৫ টাকা। জিরো পয়েন্ট থেকে সাইন্স অনুষদের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার; সিএনজি ভাড়া ৭ টাকা কিন্তু ই-কার ভাড়া ১০ টাকা।
জিরো পয়েন্ট থেকে মেরিন সাইন্স ইনস্টিটিউটের দূরত্ব দেড় কিলোমিটারের একটু বেশি; সিএনজি ভাড়া ৮ টাকা কিন্তু ই-কারের জনপ্রতি ভাড়া ধরা হয়েছে ১৫ টাকা। আইন অনুষদ থেকে জিরো পয়েন্ট হয়ে ২ কিলোমিটার দূরত্বের শহীদ মিনারের ই-কার ভাড়া ধরা হয়েছে ১৫ টাকা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সিএনজি করে দুজন মেরিন সাইন্সে গেলে আগে খরচ হতো ১৫ টাকা সেখানে ই-কারে একজনেরই লাগবে ১৫ টাকা। ই-কার ১৩ জন যাত্রী বহন করতে পারবে সে তুলনায় কম রাখার কথা অথচ বেশি রাখা হচ্ছে। তাদের দাবি ই-কারের ভাড়া সব জায়গায় ৫ টাকা করা উচিৎ।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মঈন উদ্দিন চিশতী বলেন, "ই-কারের ভাড়া নিয়ে প্রশাসনের যে তালিকা আমরা দেখেছি তা পুরোপুরি অযৌক্তিক মনে হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন সিএনজি করে দুজন মেরিনে গেলে আগে খরচ হতো ১৫ টাকা। এখন প্রশাসনের ই-কারে একজনের খরচই ১৫ টাকা। প্রশাসনের এই ভাড়ার তালিকা শিক্ষার্থীবান্ধব হয়নি, বরঞ্চ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বান্ধব হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "ই-কারের ভাড়া উঠানামা সূত্রে ৫ টাকা করতে হবে। যত দূরে হোক যাক বা যত কাছে নামুক, ৫ টাকার বেশি গ্রহণযোগ্য না। যেখানে যাবে যাক, ভাড়া ৫ টাকাই করা হোক। তা না হলে এত ভাড়ায় আমাদের ই-কারের প্রয়োজনীয়তা নেই, চক্রাকারে বাস সার্ভিস চালু করার আহ্বান জানাই।"
ইতিহাস বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তাহসান হাবীব তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন,"ই-কারের ভাড়া অতিরিক্ত ধার্য করে শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।ই-কারের ভাড়া ৫ টাকা, ক্ষেত্রে বিশেষে ৮ টাকা করা যেতে পারে।"
তিনি আরো লিখেন,"মূলত, সিএনজি ও রিকশা সিন্ডিকেটকে টিকিয়ে রাখতেই ই-কারে অস্বাভাবিক ভাড়া ধার্য করা হয়েছে বলে মনে করছি। অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক ভাড়ার চার্ট সংস্কার করে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করুন। আমরা যতটুকু জানি,বিদ্যুৎ বিলের খরচ প্রশাসন বহন করবেন,তাহলে কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া সিএনজির চেয়েও বেশি কেন?অতিরিক্ত ভাড়া কমিয়ে, প্রশাসনের কাছে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে ই-কারের তত্ত্বাবধানে থাকা রাসেল আহমেদ বলেন, "অনেকেই বলছে সিএনজি থেকেও ই-কারের ভাড়াটা ২-৩ টাকা বেশি। আসলে সিএনজিতে গাদাগাদি করে বসতে হয় আর ই-কারে ৩ জন বসলে যথেষ্ট পরিমাণে জায়গা থাকে ফলে আরাম করে বসতে পারছে শিক্ষার্থীরা। সেই তুলনায় আসলে ভাড়াটা খুব বেশি না।"
ই-কারের ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধূরী বলেন, "এগুলো আস্তেধীরে এডজাস্ট হবে। যেমন, আজকেও একটি ভাড়া কমানো হয়েছে; লাইব্রেরি পর্যন্ত ভাড়াটা ৫ টাকা করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অবস্থা বুঝে এগুলো ঠিক হবে, শিক্ষার্থীদের অসুবিধা না হওয়ার মতো যেরকম হয় সেভাবে করা হবে।"
ইই