ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনকে ঘিরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি এবং কট্টর আওয়ামী লীগ–সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ আসন এখন চট্টগ্রাম জেলার অন্যতম আলোচিত নির্বাচনী এলাকায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের সামনে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন, কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতির তুলনামূলক লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী মাঠে, বক্তব্য, গণসংযোগ ও আলোচনা সবকিছু মিলিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে।
বিএনপি প্রার্থী: সরওয়ার আলমগীর,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও শিল্পপতি সরওয়ার আলমগীর। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল রাজনীতিতে সক্রিয় এই প্রভাবশালী নেতা নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ফটিকছড়িতে দলীয় সংগঠন গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ অনেকটাই কাটিয়ে তিনি এখন নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের মূল বিষয়গুলো হলো,উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কৃষি ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যকে শক্তিশালী করা।
জামায়াত প্রার্থী: অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিন,
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিনকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ধর্মীয় ও শিক্ষা অঙ্গনে পরিচিত এই নেতা নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয়-নৈতিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার বার্তা তুলে ধরছেন।
তার দলের নেতাকর্মীদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তার শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে এবার জামায়াতের ভোট ব্যাংক আরও সুসংহত হবে এবং ফটিকছড়িতে তারা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
আওয়ামী লীগ–সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী: ইঞ্জিনিয়ার গোলাম নওশের আলী চৌধুরী,
কট্টর আওয়ামী লীগ–সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইঞ্জিনিয়ার গোলাম নওশের আলী চৌধুরী ‘জনতার দল’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দলীয় পরিচয়ের বাইরে এসে তিনি স্থানীয় উন্নয়ন ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং পটভূমির কারণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো তার নির্বাচনী প্রচারের প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। তিনি নিজেকে ভোটারদের কাছে একটি বিকল্প উন্নয়ন মডেলের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন।
ভোটারদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:
ফটিকছড়ি আসনের রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা অতীত নির্বাচনগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার বিএনপি ও জামায়াত নিজ নিজ বৃহত্তর ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে মরিয়া, অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ–সমর্থিত ভোট ও স্থানীয় ইস্যুভিত্তিক সমর্থন একত্রিত করার কৌশলে এগোচ্ছেন।
সরেজমিনে কথা বলা তুলনামূলক বয়স্ক ভোটাররা জানিয়েছেন, যিনি নেতৃত্ব, কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে উন্নয়নমুখী ফটিকছড়ি গড়তে সবচেয়ে বেশি সক্ষম হবেন, তার পক্ষেই তারা ভোট দেবেন।
অন্যদিকে তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশা কিছুটা ভিন্ন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, বেকারত্ব দূর করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নির্মূল, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন এমন প্রার্থীকেই তারা বেছে নিতে চান। পাশাপাশি তারা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
প্রার্থীদের বক্তব্য: বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর বলেন, “সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।”
তবে তিনি জামায়াতে ইসলামির পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্র দখলের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।
জামায়াতে ইসলামির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিন ওমরাহ পালনের কারণে দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে দলের নেতাকর্মীদের দাবি, প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে জামায়াত প্রার্থী বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম নওশের আলী চৌধুরী এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।
ইই