নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের বাকলিয়ার শান্তিনগরে পিতাকে হাত-পা বেঁধে ১৩ দিন ধরে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠেছে আপন দুই ছেলের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা খবর পেয়ে ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তার দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছে। তবে মামলা না হওয়ায় তাদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠায়।
শনিবার (৮ মার্চ) রাত ১টায় বাকলিয়ার শান্তিনগর নিরাপদ হাউজিং সোসাইটির খুইল্যা মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনার সন্ধান করে স্থানীয়রা। জানা গেছে ১৩ দিন ধরে ২ ভাই মিলে বাবাকে খাটের সঙ্গে চার হাত পা বেঁধে নির্যাতন করে আসছিল। স্থানীয় ও ভিডিও'র বরাতে জানা গেছে, ২ ছেলে মো. আব্দুল আউয়াল (৩০), মো. আব্দুল রহিম (১৮) তাদের বৃদ্ধ বাবা খুইল্যা মিয়াকে ১৩ দিন ধরে খাটের উপর হাত-পা রশি দিয়ে চার দিকে টানা দিয়ে বাঁধে। স্থানীয়রা সেসব বাঁধ খুলে দিচ্ছেন। বৃদ্ধ মৃদু ভাষায় কথা বলছেন। সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় ৬৫ বছরের এই বৃদ্ধের ওপর এমন বর্বর ও অমানবিক অত্যাচার চালাচ্ছিল তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি পাশের ভবনের একজন দেখে ফেললে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খবর দেন। শনিবার রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এখন তিনি আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাদের বলেন, বাকলিয়ার এক বড় ভাই আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে দুই ছেলে, মেয়ে ও স্ত্রীর সামনে বৃদ্ধ খুইল্লা মিয়াকে চার হাত-পা বাঁধা অবস্থা দেখতে পাই। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। এখন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, খুইল্লা মিয়া তার সম্পত্তি ছেলেদের লিখে না দেওয়ায় তাকে ১৩ দিন হাত-পা বেঁধে অত্যাচার করা হয়েছে বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। তিনি আমাদের জানান, দুই ছেলে কিছুদিন পর পর তার কাছ থেকে ৫ লাখ, দুই লাখ টাকা জোর করে আদায় করতো। টাকা না দিলেই অত্যাচার করতো তারা।
স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধ খুইল্লা মিয়ার হার্টে রিং পরানো আছে। ১৩ দিন নির্যাতনের কারণে তাঁর হার্টের অবস্থার অবনতি হয়। তিনি একটি ভবনের মালিক। ওই সম্পত্তি নিয়েই সন্তানদের সাথে তার বিরোধ। সন্তানরা তাকে হিসেবে সবার কাছে উপস্থাপন করলেও খুইল্যা মিয়া নিজেকে পাগল নন বলে জানান।
বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ৮ মার্চে রাত দেড়টার দিকে জানতে পারি বাকলিয়ার নিরাপদ হাউজিং সোসাইটির একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় একজন ব্যক্তিকে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিক আমাদের একটি টিম সেখানে পাঠাই। টীম সেখানে গিয়ে জানতে পারে ৭-৮ দিন ধরে ওই ব্যক্তিকে খাটের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এসময় বৃদ্ধ লোকটিকে আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতায়উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি হাসপাতাল থেকে ফিরে মামলা করলে আমরা গ্রহণ করব। ইতিমধ্যে তার দুই ছেলেকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।