ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হঠাৎ ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে লাখো মানুষ। এরমধ্যে গতকাল রবিবার সকাল থেকে ফটিকছড়ি পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সকল লাইনম্যান ও কারিগরি কর্মকর্তারা হঠাৎ করেই তাদের কাজের সরঞ্জাম জমা দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বা কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত মেরামতের জন্য এখন কোনো মাঠকর্মী নেই।
এ ধরনের নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে পুরো উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই আকস্মিক কর্মবিরতির কারণে উপজেলার লাখ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। যেকোনো সময় ট্রান্সফরমার, লাইন বা অন্য কোনো যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তা সমাধান করার মতো কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বর্তমানে অফিসে নেই। এতে করে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে পারেন।
অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, কর্মীদের ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কী দাবিতে তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের (ডিজিএম) শুধু বলেন, লাইনম্যান, কারিগরি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের ঘোষিত ৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের দাবিগুলো কী, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একই সাথে, আন্দোলনরত লাইনম্যান ও কারিগরি কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ গ্রাহকরা ফটিকছড়ি পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, বিদ্যুৎ সেবার মতো একটি জরুরি এবং জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এর দায় ডিজিএম এড়াতে পারেন না। জনগণ প্রশ্ন করছেন, কর্মীরা এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলো না? কেন তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলেন, সে বিষয়টিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
স্থানীয়রা বলছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জনসেবা। তাৎক্ষণিক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জরুরি সেবাখাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা জনগণের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
ইই