দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রামে ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণসহ ছিনতাই চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ৯ জানুয়ারী ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রামে ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার স্বর্ণসহ ছিনতাই চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক 

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। গত ৪ জানুয়ারি ভোরে পাঁচলাইশ থানাধীন আতুরার ডিপো এলাকায় সংঘটিত এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—সুমন চন্দ্র দাস, মো. মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু, রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমন, রবি কুমার দাস, পান্না রানী দাস এবং তথ্যের জোগানদাতা বিবেক বনিক।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ৪ জানুয়ারি ভোর ৫টায়, যখন সবুজ দেবনাথ নামের এক ব্যক্তি তার দুই সহযোগীকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা যোগে কোতোয়ালী থেকে বায়েজিদ এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দুটি মোটরসাইকেলে আসা ৪ ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩৫টি স্বর্ণের বার ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় পরদিন পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ যৌথ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৮ জানুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর থেকে মূল অভিযুক্ত সুমন ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেন যে, তার নেতৃত্বেই এই ছিনতাই সংঘটিত হয়েছে। সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তার চাচাতো ভাই রবি কুমার দাস এবং চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে স্ত্রী পান্না রানী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া কোতোয়ালী এলাকা থেকে এই চক্রের অন্যতম সদস্য বিবেক বনিককে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি মূলত স্বর্ণের যাতায়াত সংক্রান্ত গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে যে, ছিনতাই করা স্বর্ণের বারগুলো প্রথমে পান্না রানীর কাছে রাখা হলেও পরে তা রবি কুমারের মাধ্যমে ঢাকার এক আত্মীয়ের বাসায় সরিয়ে ফেলা হয়।

পরবর্তীতে ৯ জানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে একটি পানির ফিল্টারের কিট বক্সের ভেতর থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওপর খোদাই করা ছিল বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন। সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বাকি আলামত উদ্ধারে পুলিশের অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার এবং অপরাধীদের শনাক্ত করাকে পুলিশের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।