ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ হালদা নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নারায়নহাট পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একইসঙ্গে অন্যান্য পয়েন্টগুলোতেও পানির স্তর বিপদসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অতিবৃষ্টির কারণে বিগত কয়েকদিন ধরেই হালদা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়েছিল। নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দারা ভুগছিলেন আতঙ্কে। তবে আজকের পরিমাপ অনুযায়ী পানি বিপদসীমার নিচে থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয়দের মাঝে।
হালদা গবেষক ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হওয়ায় এর পানি ও পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হয়। অতিরিক্ত পানিপ্রবাহ কিংবা আকস্মিক বন্যা ডিম ছাড়ার মৌসুমে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বর্তমানে ডিম ছাড়ার মৌসুম শেষ, তবুও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় হালদার পানি প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ।
হালদা তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোর মধ্যে ছিল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ নারায়নহাট, ভূজপুর ও হারুয়ালছড়ি। তবে পানি বিপদসীমার নিচে থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দারা আপাতত স্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গতবার যখন হালদার পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, আমাদের ঘরের অর্ধেক পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। এবার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। তবে আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো আছে।
হালদা নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের প্রতি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন তারা সতর্ক থাকেন এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ইই