নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান ও আলোচিত ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এম হারুন-অর-রশীদের (বীর প্রতীক) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের একটি কক্ষে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, এম হারুন-অর-রশীদের পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম ক্লাবে এসেছেন। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চট্টগ্রামের চিকিৎসকদের একটি দল চট্টগ্রাম ক্লাবে এসে সাবেক সেনাপ্রধানের মরদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে তারা সাবেক সেনাপ্রধানকে মৃত ঘোষণা করেন।
৭৫ বছর বয়সী সাবেক সেনা প্রধান এম হারুন-অর-রশীদের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীর ধলই ইউনিয়নে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়।
২০০০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আসেন হারুন। ২০০২ সালের জুনে অবসরে যাওয়ার পর সরকার তাকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজির রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও দিয়েছিল।
সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাবেক মহাসচিব হারুন-অর-রশীদ ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন ২০০৬ সালে। পরের কয়েক বছরে আরও বহু ক্ষেত্রে ডেসটিনির ব্যবসা বিস্তৃত হতে দেখা যায়। কিন্তু জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ তুঙ্গে উঠলে ২০১২ সালে হারুন-অর-রশীদকে কারাগারে যেতে হয়। পরে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছিল।
জানা যায়, হারুন-অর-রশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছিল। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করেছে। এসব বিবেচনায় তাকে সর্বনিম্ন দণ্ড (চার বছর) দিয়েছেন আদালত। রায়ে তার ব্যক্তিগত অবরুদ্ধ সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব রিলিজ (অবমুক্ত) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৪ সালের ৪ মে দুই মামলায় বিতর্কিত বহু স্তর বিপণন (এমএলএম) কোম্পানি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমিন, কোম্পানির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট। তাদের বিরুদ্ধে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন (ডিটিপিএল) প্রকল্প এবং ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড (ডিএমসিএসএল) এর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধান এরশাদের বিরুদ্ধে জনতা টাওয়ার দুর্নীতি মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া রাষ্ট্রপতি থাকাকালে পাওয়া উপহার রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা না দেওয়া ও জাপানি নৌযান কেনায় অনিয়মের অভিযোগে এরশাদের কারাদণ্ড হয়েছিল।
১৯৯০ সালে গণআন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এরপর এরশাদের বিরুদ্ধে এসব মামলা হয়।
এমএইচএফ