দক্ষিণ পূর্ব

সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাদাবির অভিযোগ: কারাগারে যুবক

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৫ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাদাবির অভিযোগ: কারাগারে যুবক
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের এক ব্যবসায়ীকে সাংবাদিক পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাজেদুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

রোববার (০৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মিজানুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।  বিষয়টি মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল গালিব নিশ্চিত করেন।

মাজেদুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর চন্দ্রগঞ্জ মোল্লাবাড়ী এলাকার জাফর আহমদের ছেলে। তিনি মামলার দুই নম্বর আসামি।

সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল গালিব বলেন, মাজেদুল ইসলাম মহামান্য হাইকোর্টে আগাম জামিনের জন্য আবেদন। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন নাকোচ করে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেন। আসামি মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসলে আদালত বাদী ও আসামি পক্ষের আইনজীবীদের শুনানিতে আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আদালতের এই আদেশের মধ্যে দিয়ে ব্যবসায়ী মহলে যারা নিরব চাঁদাবাজি করছেন তাদের জন্য সর্তকবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

জানা যায়, এই মামলায় প্রধান আসামি ইফতেখারুল করিম চৌধুরী এখনো পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় মামলা আছে। যার মামলা নং-১৬(২)২০২১ এবং ১৭(০২) ২০২১। এছাড়া তিনি নিজেকে 'দৈনিক মুক্ত খবর" পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক, অস্ত্র চোরাচালান ব্যবসা এবং চাঁদাবাজী চক্রের সাথেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। খাতুনগঞ্জের অনেক ব্যবসায়ী তাদের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ, চক্রের ফাঁদে পাড়ে হেনস্থার শিকার হয়ে নিরবে গুমরে মরছেন।

মামলার এজাহরে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনকে ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার ও কর্মচারীদের একেক সময় একেক কথা ও ভিন্ন রকমের হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে ইফতেখারুল করিম চৌধুরী ও মাজেদুল ইসলাম। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ইফতেখারুল করিম চৌধুরী ও তার ক্যামেরাম্যান নিয়ে মোসলেম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তার সুনাম ক্ষুন্ন, মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির হুমকি দিয়ে আসে। একইসাথে এক কোটি বিশ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ৩ মার্চে মাজেদুল ইসলাম বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায় এবং নিজেকে এশিয়ান টিভির সাংবাদিক পরিচয় দেন। মাজেদুল বাদীকে নিউজ করার হুমকি দেন এবং নিউজ না করার জন্য ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তীতে বাদী ও সাক্ষী আবু ছালেহ, হুমায়ুন কবির ভূইয়াদের শোর চিৎকারে আশে পাশের লোকজন আসলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। 

গত ১৫ জুলাই দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট৷ সংস্থাটির পরিদর্শক সত্যজিৎ বড়ুয়ার করা তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে চাঁদাদাবি ও হুমকির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। 

এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।