নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চাচাতো ভাইয়ের হাতে সুপ্তা মাঝি (১৫) নামে এক কিশোরী খুন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে উপজেলার উদালিয়া চা-বাগানের পহেলা টিলা এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত রতন দাশ (৩৭) বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। নিহত সুপ্তা মাঝি স্থানীয় চা শ্রমিক কৃষ্ণ মাঝির কন্যা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাচাতো ভাই রতন দাশের সঙ্গে একই বসতঘরে বসবাস করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সুপ্তাসহ কৃষ্ণ মাঝির চার মেয়ে ছিল। রতনের এক মেয়ে জন্মের পর মারা যায়। এজন্য রতন ও তার স্ত্রী সুপ্তাকে কৃঞ্চ মাঝির কাছ থেকে নিয়ে তাদের ঘরে রেখে সন্তানের স্নেহে লালন-পালন করেন। সুপ্তার বাবা-মা ও বাকি তিন বোনও চা-বাগানে কাজ করেন। এজন্য সুপ্তাও চা-বাগানে কাজে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রতন এবং তার স্ত্রী উভয়েই চা-শ্রমিক। পাশাপাশি রতন সেলাইয়ে পারদর্শী। চা-বাগানের কাজের বাইরে রতন ওই এলাকায় সেলাইয়ের কাজ করেও বাড়তি উপার্জন করতেন। ‘হঠাৎ রতন সিদ্ধান্ত নিল, সে চা-বাগানের কাজ ছেড়ে স্ত্রী ও সুপ্তাকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে যাবে। সেখানে তিনজন মিলে সেলাইয়ের কাজ করলে আরও বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবে বলে তার ধারণা ছিল। এজন্য স্ত্রী ও সুপ্তাকে তার কাছ থেকে সেলাই শেখার জন্য বারবার তাগাদা দিয়ে আসছিল। কিন্তু ওরা দুজন চা-বাগান ছেড়ে শহরে যেতে আগ্রহী ছিলেন না। এজন্য রতন যতবারই তাদের একথা বলতো, তারা বিষয়টি এড়িয়ে যেত, কিংবা সেখান থেকে চলে যেত। এ নিয়ে রতনের মনে ক্ষোভ ছিল। শনিবার (৫ জুলাই) সকালে রতন বাইরে থেকে ঘরে ফিরলে তার স্ত্রী ও সুপ্তা তাকে দেখে সেখান থেকে চলে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সে সুপ্তাকে আটকে এলোপাতাড়ি কোপায়। ঘটনা দেখে রতনের স্ত্রী দ্রুত অন্যান্য শ্রমিকদের সেখানে ডেকে আনেন। তারা আহত সুপ্তাকে হাসপাতালে পাঠায় আর রতনকে আটক করে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় সুপ্তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রতন দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুল হক জানান, নিজ ঘরে রতন বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সুপ্তাকে গুরুতর জখম করে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ফটিকছড়ির নাজিরহাটে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর চা-বাগানের অন্যান্য শ্রমিকরা মিলে রতনকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাকে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এমএইচএফ