দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
১৮০টি দেশ ভ্রমণের এক অসাধারণ মাইলফলক ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের দুঃসাহসী পরিব্রাজক নাজমুন নাহার। সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ তিমুর-লেস্তে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তিনি এই নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এটি শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং দৃঢ় সংকল্প, ত্যাগ এবং স্বপ্নের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
নিজের ফেসবুক পোস্টে নাজমুন নাহার এই অর্জনের কথা জানান। তিনি লিখেছেন, 'তিমুর-লেস্তের রাজধানী দিলির সর্বোচ্চ চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছি আমি—বুকে লাল-সবুজ পতাকা।' সমুদ্র, পাহাড় এবং সূর্যোদয়ের অসাধারণ বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, শত শত সিঁড়ি বেয়ে কঠিন হাইকিং শেষে তিনি ক্রিস্টো রেই-এর চূড়ায় পৌঁছেছেন। এই চূড়ায় দাঁড়িয়ে প্রকৃতি যেন তাকে নতুনভাবে অভিবাদন জানিয়েছে।
নাজমুন নাহারের কাছে প্রতিটি ভ্রমণ কেবল পথচলা নয়, বরং এক একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তিনি বলেন, আমার কাছে প্রতিটি দেশ যেন এক একটি যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে জয় মানে স্বপ্নপূরণ। এই স্বপ্নপূরণের পথটি সহজ ছিল না; প্রতিটি পদক্ষেপ এসেছে অগণিত ত্যাগ, কঠিন সংগ্রাম আর দৃঢ় প্রত্যয়ের বিনিময়ে।
তিমুর-লেস্তে তার কাছে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বহু শতাব্দীর ঔপনিবেশিক শাসন এবং ২৪ বছরের ইন্দোনেশিয়ার দখলদারিত্বের পর ২০০২ সালের ২০ মে এই দেশটি স্বাধীন হয়। এই দেশের মাটিও স্বাধীনতার জন্য রক্ত আর ঘামের গল্প বলে। নাজমুন নাহার এই জাতির সাহস ও অবিচলতা দেখে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
তিনি মনে করেন, তার নিজের সংগ্রাম আর তিমুর-লেস্তের জনগণের সংগ্রাম যেন কোথাও একাকার হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আমি গর্বিত ১৮ কোটি বাংলাদেশের মানুষের লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে আমার ১৮০তম দেশে ভ্রমণের মাটিতে দাঁড়িয়ে, এই দেশের মানুষের ইতিহাসের সাথে নিজেকে সংযুক্ত করতে পেরে।
নাজমুন নাহার বিশ্বাস করেন, ভ্রমণ কেবল নতুন কিছু দেখা নয়, বরং শেখা, জানা এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করার এক নিরন্তর প্রক্রিয়া। তিমুর-লেস্তের পাহাড়, সমুদ্র আর ইতিহাস তার স্বপ্নকে আরও গভীর করেছে। তার কাছে প্রতিটি কষ্ট বিজয়ের হাসিতে পরিণত হয় যখন তিনি কোনো নতুন দেশের অপূর্ব নিসর্গের চূড়ায় দাঁড়িয়ে তার সৌন্দর্যকে উপভোগ করেন।
নাজমুন নাহারের এই অবিস্মরণীয় যাত্রা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে নতুনভাবে স্বপ্ন দেখতে এবং কঠিন পথ অতিক্রম করে সফল হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
ইই