ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় ফটিকছড়ির একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো সুন্দরপুর ইউনিয়নজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। চট্টগ্রাম ও ফটিকছড়িতে অনুষ্ঠিত দুই দফা জানাজায় হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে নিহতদের জানানো হয়েছে অশ্রুসিক্ত শেষ বিদায়।
নিহতরা হলেন, ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া গ্রামের শফিউল আলমের স্ত্রী বিলকিস আক্তার, ছেলে মোহাম্মদ সাকিবুল হাসান সবুজ (২২) এবং মেয়ের জামাই মোহাম্মদ দিদারুল আলম।
১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিহতদের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নেওয়া হয় চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায়।
১৬ জানুয়ারি শুক্রবার ভোরে বাদে ফজর সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা অছিয়র রহমান আল কাদেরী। এতে দেড় হাজারেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন।
একইদিন সকাল সাড়ে ৮টায় মরদেহগুলো পৌঁছায় নিহতদের গ্রামের বাড়ি ছোট ছিলোনিয়ায়। মরদেহ পৌঁছামাত্রই সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী প্রিয়জনদের শেষবারের মতো এক নজর দেখতে ভিড় জমান।
বিকেল ৩টায় গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় ও শেষ জানাজা। এতে ইমামতি করেন শাইখুল হাদিস মাওলানা সোলাইমান আনসারী। গ্রামজুড়ে শোকস্তব্ধ পরিবেশে প্রায় তিন হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর, জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, বিএনপি নেতা শহিদুল আজম চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আবু তাহের আল কাদেরী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ আল কাদেরী, মাওলানা ফয়জুল আলম, মাওলানা আজিজুল করিমসহ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অসংখ্য ব্যক্তি। লাশ গ্রহণ থেকে শুরু করে জানাজা ও দাফন পর্যন্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ সুন্দরপুর ইউনিয়ন শাখা ও গ্লোবাল শাখা।
জানাজা পূর্ব স্মৃতিচারণে বক্তারা বলেন, একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো সুন্দরপুর আজ শোকে মুহ্যমান। খবর শোনার পর থেকেই মানুষ লাশবাহী গাড়ির পথের দিকে ছুটে এসেছে। ঘটনাটি সত্যিই হৃদয়বিদারক।
নিহত সাকিবের ছোট চাচা জাহাঙ্গীর আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা শুধু তিনজন প্রিয়জন হারাইনি একটি স্বপ্নভরা পরিবার হারিয়েছি। আল্লাহ যেন তাদের সবাইকে জান্নাত নসিব করেন। বাকিদের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।”
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে ওমানের সালালা এলাকায় পরিবার নিয়ে সফর শেষে ফেরার পথে তাদের গাড়ির সামনে হঠাৎ একটি উট চলে আসলে সংঘর্ষ ঘটে। এতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাকিবের স্ত্রী উম্মে সালমা রিতা ও তাদের শিশুকন্যা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইই