দক্ষিণ পূর্ব

পাঁচলাইশ থানার ১০০ গজের মধ্যে ছিনতাইয়ের শিকার নারী

মনির ফয়সাল
মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পঠিত :
পাঁচলাইশ থানার ১০০ গজের মধ্যে ছিনতাইয়ের শিকার নারী
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ মডেল থানার ১০০ গজের মধ্যে এক নারী ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। ছিনতাইকারীরা মোটর সাইকেল চড়ে এসে রিকশারোহী ওই নারীর কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ব্যাগে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও টাকাসহ প্রায় পৌনে ৪ লাখ টাকার জিনিসপত্র ছিল বলে জানিয়েছেন ছিনতাইয়ের শিকার নারী। 

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে পাঁচলাইশ মডেল থানার অদূরে বেলভিউ হসপিটালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। 

ঘটনার পরপরই হতবিহবল মধ্যবয়স্কা সেই নারী ও তার স্বামী থানায় ছুটে যান। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় একটা মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত দুই যুবককে আসামী করা হয়েছে। 

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে ডাক্তার দেখাতে মেয়ের বাসায় এসেছিলেন বেবী আক্তার ও তার স্বামী নুরুল আবচার। এরমধ্যে তাদের একমাত্র মেয়ে একটি দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পার্ক ভিউ হসপিটালে ভর্তি হন। মেয়ের সিটি স্ক্যান করানোর সময় দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, ডায়মন্ডের নাক ফুল, গলার চেইন ইত্যাদি খুলে ভ্যানিটি ব্যাগে রাখা হয়। নিরাপত্তার কথা ভেবে মেয়ের ভ্যানিটি ব্যাগটিও নিজের ব্যাগের ভেতরে নিয়ে সাথে রেখেছিলেন বেবী আক্তার। একইদিন রাতে ন্যাশনাল হসপিটালে ডাক্তার দেখিয়ে পার্ক ভিউ হসপিটালে মেয়ের কাছে ফেরার পথে পাঁচলাইশ মডেল থানার সামনে হঠাৎ ছিনতাইয়ের শিকার হন তিনি। এসময় তিনি ও তার স্বামী শোরচিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানান। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাইকৃত মালামালের মূল্য প্রায় ৩ লাখ ছিয়াত্তর হাজার টাকা। অন্যদিকে একইদিন একই সময়ে নগরীর দুই নম্বর গেইট এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। টেম্পুতে চড়ে বাসায় ফেরার পথে চলন্ত গাড়ি থেকে ছোঁ মেরে আইফোন-১৬ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা। এ বিষয়েও পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। 

পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ‘ঘটনার পর ভিকটিম তাদের জামাতা নয়া দিগন্তের স্টাফ রিপোর্টার আরফাত হোছাইন বিপ্লবকে সাথে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। আমরা মামলা নিয়েছি। এসআই তামজিদকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে পুলিশ অপরাধীদের খুঁজে বের করতে এবং ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. তামজিদ হোসাইন জানান, ‘এই মামলা নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। আগামীকাল মামলার বাদি নুরুল আবচারকে থানায় আসতে বলেছি। তার সাথে আলাপ করে স্পটে গিয়ে তদন্তকাজ শুরু করবো। ’

মানবাধিকার সংগঠক এডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘সম্প্রতি চট্টগ্রামে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পাঁচলাইশের মতো জনবহুল এলাকা, তার উপর থানার ১০০ গজের মধ্যেও মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা না থাকা ভেরি এলার্মিং। আশা করি আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা রোধে নগরবাসীর নিরাপত্তায় আরো তৎপর হবে।’

এমএইচএফ

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।