দক্ষিণ পূর্ব

লটারির আড়ালে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
পঠিত :
লটারির আড়ালে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ
পটিয়া প্রতিনিধি 

চট্টগ্রামের পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে অনিয়ম ও ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়। এ বছরও একই সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সেই অনুযায়ী গত ২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি ফরম বিতরণ করা হয়। ফরম বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনিল কুমার বড়ুয়া।

৩০ নভেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফরম জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৪ ডিসেম্বর 'লটারির ড্র' অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয়। লটারিতে সুযোগ পাওয়া ২২০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য আহ্বান জানানো হয় এবং ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, লটারি প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী মহল কারসাজি করে তাদের পছন্দের শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ যেখানে ৩০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেখানে শুরুতে মাত্র ২২০ জনকে লটারির মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ দেওয়ায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, “কর্তৃপক্ষ যতজন শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, লটারির মাধ্যমে ততজনকেই সুযোগ দিতে হবে। লটারিতে সুযোগপ্রাপ্ত কেউ ভর্তি না হলে তখন অপেক্ষমান তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যেতে পারে। ৩০০ জন ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে ২২০ জন শিক্ষার্থীকে লটারিতে সুযোগ দিয়ে শুরুতেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন খালি রেখে দেওয়া অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়।”

এদিকে লটারিতে নির্বাচিত ২২০ জনের মধ্যে প্রায় সব শিক্ষার্থী ভর্তি হন বলে নিশ্চিত করেছেন ভর্তি কমিটির সদস্য ও বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল হাফেজ। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৮৮ জন শিক্ষার্থীর একটি অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকা প্রকাশের পর নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, মেধা বা লটারির ভিত্তিতে নয়; বরং রাজনৈতিক তদবির ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অপেক্ষমান তালিকায় শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে একটি চক্র একজন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক বলেন,
“আমার ছেলে ভালো ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও লটারিতে নাম না আসায় বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও ভর্তি করাতে পারিনি। কিন্তু আমার পরিচিত কয়েকজন অভিভাবক অর্থের বিনিময়ে তাদের সন্তানকে ভর্তি করাতে পেরেছেন বলে শুনেছি। যারা লটারিতে আসেনি তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ দিলে ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না। ”

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুনিল কুমার বড়ুয়ার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল কান্তি নাথ বলেন, “অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, “প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা অবৈধভাবে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ভর্তি হবে, তাদের ভর্তি বাতিল করা হবে।"

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।