নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জে বোনের শ্বশুর বাড়িতে ভাইকে হত্যার ঘটনায় আসামি ফরিদ উদ্দিন প্রকাশ শরীফকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার (৮ মার্চ) বিকালে নগরের পাহাড়তলীর উত্তর কাট্টলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৭ এর একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে নিশ্চিত করেন সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম মোজাফফর হোসেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৭ জানতে পারে হত্যা মামলার আসামি ফরিদ উদ্দিন চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলী এলাকায় অবস্থান করছে। পরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়,নিহত ভিকটিম মোঃ মফিজ প্রকাশ মহিউদ্দিন (৪৫) দীর্ঘ দিন ওমান প্রবাসে ছিলেন। কিছু দিন আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। আনুমানিক ৪ বছর আগে শেখ ফরিদের সাথে মফিজের বোনের বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিন্ডার সৃষ্টি হয়। ভিকটিম মোঃ মফিজ প্রকাশ মহিউদ্দিন বোনের সংসারে সুখের কথা চিন্তা করে ওমানে থাকা অবস্থায় বোনের স্বামী শেখ ফরিদ উদ্দিনকে ব্যবসার জন্য ১৫ লাখ টাকা ধার দেন। পরর্বতীতে মহিউদ্দিন দেশে ফিরে এসে মুঠোফোনে ১৫ লাখ টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে তার বোন ও বোনের স্বামী শেখ ফরিদ উদ্দিনকে টাকা ফেরত দিতে বললে শেখ ফরিদ উদ্দিন ও তার পরিবার টাকা অস্বীকৃতি জানায়।
র্যাব আরও জানায়, ভিকটিমের বোন টাকা ফেরতের বিষয়ে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অস্বীকৃতির ভাইকে জানালে গত ২১ ফেব্রুয়ারি মফিজ ওরফে মহিউদ্দিন বোনের শ্বশুর বাড়িতে যান। ওইদিন রাত সাড়ে নয়টায় ভিকটিম জোরারগঞ্জ থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকায় তার শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করেন। এসময় তিনি বোনের স্বামীকে কেন ১৫ লাখ টাকা ফেরত দিতে চাচ্ছেন না জানতে চান।
র্যাব আরও জানায়, এসময় বোন জামাই শেখ ফরিদ ও তার পরিবারে অন্যান্য লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা মহিউদ্দিনকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
এ ঘটনায় নিহত মহিউদ্দিনের বোন বাদী হয়ে জোরাগঞ্জ থানায় ৪ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতানামা আরও ৪-৫ জনকে আসামী করে একটি মামলার দায়ের করেন।
গ্রেপ্তার শেখ ফরিদ ওরফে শরিফ (৩৫) জোরারগঞ্জের নোয়াপাড়ার মিছিল আহমেদের ছেলে। তাকে জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ.আর. এম মোজাফফর হোসেন।