দক্ষিণ পূর্ব

প্রকল্প শেষ হলে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় প্রাণিসম্পদের প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা

Masud forhan
Masud forhan
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৫
পঠিত :
প্রকল্প শেষ হলে চাকরি হারানোর আশঙ্কায় প্রাণিসম্পদের প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা চাকরি আশঙ্কায় রয়েছেন। এছাড়া প্রশিক্ষিত জনবল সংকটে প্রাণিসম্পদ সেক্টর মুখ থুবড়ে পড়বে বলেও মনে করছেন তারা। 

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পরিষদ চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের উদ্যোগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ), বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ), ভেটেরিনারি ডক্টর‘স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভ্যাব), এগ্রিকালচারিস্ট‘স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) ও বাংলাদেশ এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী এসোসিয়েশন (বাহা) এর সমন্বয়ে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা এসব মতামত তুলে ধরেন। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উক্ত প্রকল্পের আওতায় ৪৬৫ জন প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর যোগদান করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে ডিম ও মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে নারীদের উদ্যোক্তায় পরিণত করার মাধ্যমে সাবলম্বী ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে আসছে। 
প্রাণিসম্পদ সেক্টরকে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বেইজ লাইন সার্ভে ও ডাটা বেইজ ডেভেলপমেন্ট করেছে। নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ যোগানের লক্ষ্যে খামারীদের  সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। উল্লেখ্য, কোভিড-১৯, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেটেরিনারি সেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।  

বক্তারা আশঙ্কা করছেন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষে এই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল সংকটে প্রাণিসম্পদ সেক্টর মুখ থুবড়ে পড়বে এবং বর্তমান কর্মচাঞ্চল্য স্থিমিত হয়ে পড়তে পারে। ফলশ্রুতিতে খামারিরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। বক্তারা আরো উল্লেখ করেন চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মকর্তাগণ পরিবার পরিজন নিয়ে চরম অর্থকষ্টে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যাদের প্রায় অধিকাংশেরই সরকারি চাকুরীর বয়সসীমা শেষ। 

সমস্যা নিরসনে বক্তারা বলেন, প্রাণিসম্পদকে এসেনশিয়াল সার্ভিস ঘোষণা করে সকল প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের অধিদপ্তরের অধীনে রাজস্বখাতে আত্তীকরণ করা যেতে পারে অথবা প্রস্তাবিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ব্যাংকের অধীনে প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রদান করার সুযোগ রাখা যেতে পারে। 

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালক, ওয়ান হেলথ ইনস্টিটিউট, সিভাসু; সদস্য, আহবায়ক কমিটি, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ); মনিটর, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ), চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার; সভাপতি, এগ্রিকালচারিস্ট‘স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মোঃ আহসানুল হক (রোকন)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মোঃ সাইফুদ্দীন, উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় কমিটি, ভ্যাব; কার্যকরী সদস্য, এ্যাব, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সদস্য, এ্যাব, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান; কার্যকরী সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি (বাহা), কার্যকরী সদস্য, এ্যাব, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টার কৃষিবিদ প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির; জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. মোঃ আলমগীর; প্রাক্তন পরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কৃষিবিদ ডা. মোঃ ফরহাদ হোসেন, প্রফেসর ড. মোঃ রায়হান ফারুক; সাংগঠনিক সম্পাদক, এ্যাব, চট্টগ্রাম চ্যাপ্টা্‌র; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, (ভ্যাব) কৃষিবিদ ডা. শাওন এবং প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ডা. ফয়সাল, ডা. আকরাম, ডা. নাজিম, ডা. প্রিয়াংকা ও ডা. কল্পনাসহ অন্যান্য। 

ইই

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।